অন্তর্বর্তী সরকারের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন-newsedge24

বিতর্কিত সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩ বাতিল করে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৪’-এর খসড়া অনুমোদন করেছে। মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, এই অধ্যাদেশে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ৯টি বিতর্কিত ধারা বাদ দেওয়া হয়েছে, যেগুলোতে ৯৫ শতাংশ মামলা দায়ের হয়েছিল। এই ধারাগুলোর অধীনে দায়েরকৃত মামলাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে।

প্রস্তাবিত অধ্যাদেশে প্রথমবারের মতো ইন্টারনেটকে মৌলিক নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অনলাইন জুয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে সাইবার অপরাধকে শাস্তিযোগ্য করা হয়েছে। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সাইবার জগতে যৌন নির্যাতন ও হয়রানি এবং ধর্মীয় উসকানিমূলক কনটেন্ট যা সহিংসতা উসকে দিতে পারে, তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

আসিফ নজরুল জানান, বাতিলকৃত ধারাগুলোর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় সংগীত বা পতাকা নিয়ে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা, মানহানিকর তথ্য প্রকাশ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো এবং মিথ্যা বা ভীতি প্রদর্শনকারী তথ্য প্রেরণের বিধান। এই ধারাগুলোর অপব্যবহারে অনেক সাংবাদিক ও নাগরিক হয়রানির শিকার হয়েছেন।

নতুন অধ্যাদেশে স্পিচ অফেন্স-সংক্রান্ত অপরাধের জন্য দুটি ধারা রাখা হয়েছে: নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনমূলক কনটেন্ট প্রকাশ এবং ধর্মীয় ঘৃণা ছড়িয়ে সহিংসতা উসকানো। এই অপরাধগুলো সুনির্দিষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যাতে অপব্যবহার রোধ করা যায়। এই ধারার অধীনে মামলা হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারক মামলার সারবত্তা না পেলে তা প্রাক-বিচার পর্যায়ে বাতিল করতে পারবেন। এই অপরাধগুলো জামিনযোগ্য ও কিছু ক্ষেত্রে আপসযোগ্য করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি রাখার বিধান রাখা হয়েছে। কনটেন্ট অপসারণের ক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিতে হবে, এবং অপসারিত কনটেন্ট সম্পর্কে জনসাধারণকে জানাতে হবে। যদি আদালত কনটেন্ট অপসারণ অযৌক্তিক মনে করেন, তবে তা পুনর্বহাল করা হবে।

আসিফ নজরুল জানান, অধ্যাদেশের খসড়া ২৫ বার সংশোধন করা হয়েছে এবং সুশীল সমাজের সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর চূড়ান্ত করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে এই সপ্তাহের মধ্যে অধ্যাদেশটি কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া, উপদেষ্টা পরিষদ সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ-সংক্রান্ত আইনে সংশোধনী এবং দেওয়ানি কার্যবিধি (সিপিসি) সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সীমানা নির্ধারণের সংশোধনী নির্বাচন কমিশনকে তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) অধ্যাদেশটিকে “জগাখিচুড়ি আইন” হিসেবে সমালোচনা করেছে, উল্লেখ করে যে এটি সাইবার বুলিং ও মানহানির মতো বিষয়গুলোকে অস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে, যা অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা আরও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার দাবি জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *