আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর চলমান ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ জুন ২০২৫-এর মধ্যে দুই কিস্তিতে ১৩০ কোটি ডলার পেতে যাচ্ছে। মার্কিন ডলারের বিনিময় হারে নমনীয়তা আনার শর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতির পর আইএমএফ এই অর্থ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে মঙ্গলবার (১৩ মে ২০২৫) এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বুধবার (১৪ মে ২০২৫) দুবাই থেকে ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই ঋণছাড়ের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করতে পারেন। আইএমএফের পক্ষ থেকেও শিগগিরই এ বিষয়ে বিবৃতি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডলারের বিনিময় হার নির্ধারণে বর্তমানে ব্যবহৃত ‘ক্রলিং পেগ’ পদ্ধতিই অব্যাহত থাকবে। এই ব্যবস্থায় প্রতি ডলারের দাম বর্তমানে ১১৯ টাকার সঙ্গে ২.৫ শতাংশ হ্রাস-বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে, যার ফলে দাম সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ভবিষ্যতে বাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই নমনীয়তা আরও বাড়ানো হবে।
আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ঋণ কর্মসূচি ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি শুরু হয়। এর আওতায় ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত তিন কিস্তিতে ২৩১ কোটি ডলার পাওয়া গেছে। তবে চতুর্থ কিস্তির ক্ষেত্রে বিনিময় হার সংস্কার ও কর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থতার কারণে অর্থছাড় আটকে যায়।
বিনিময় হারে নমনীয়তা নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে প্রায় এক মাস ধরে আলোচনা চলে। গত ৬ থেকে ১৭ এপ্রিল ঢাকায় আইএমএফের মিশন এবং ২১ থেকে ২৬ এপ্রিল ওয়াশিংটনে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকে কোনো সমঝোতা হয়নি। পরে ৫ ও ৬ মে ভার্চ্যুয়াল বৈঠকেও সমঝোতা হয়নি। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিশ্রুতিতে আইএমএফ সন্তুষ্ট হয়েছে।
আইএমএফ গত ৫ মে জানিয়েছিল, “ঢাকার মিশন ও ওয়াশিংটনের বৈঠকের পর ভার্চ্যুয়াল আলোচনা চলছে। সংস্কারে গতি আনতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করছে আইএমএফ।” বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রলিং পেগ ব্যবস্থাকে আরও নমনীয় করার অঙ্গীকারের পর আইএমএফ অর্থছাড়ে সম্মত হয়।
এই ১৩০ কোটি ডলার ছাড়া ঋণ কর্মসূচির বাকি ১০৯ কোটি ডলার ২০২৬ সালের মধ্যে তিন কিস্তিতে পাওয়া যাবে। এই অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিনিময় হারে নমনীয়তা বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমাবে এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়াবে। তবে ডলারের দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে, যা মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































