অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছেন। আজ (২৪ মে, ২০২৫) দিনের শেষে এই বৈঠক দুটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচিত এই বৈঠকের পর ড. ইউনূস তার ভবিষ্যৎ নীতিকৌশল ঠিক করবেন বলে জানা গেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় রাজনৈতিক মহলে নাটকীয়তা এবং আবেগপ্রবণ পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। পদত্যাগের হুমকি থেকে শুরু করে সমঝোতার প্রচেষ্টা—এই সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতি তীব্র চাপের মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পিতভাবে একটি মহল ড. ইউনূসকে জনবিচ্ছিন্ন করার দিকে ঠেলে দিয়েছে। অভ্যুত্থানের মূল শক্তি—বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্র সমাজ—কে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সশস্ত্র বাহিনীকেও কৌশলগতভাবে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। ছাত্রদের মধ্যে অনৈক্য এবং দূরত্ব বৃদ্ধি পাওয়ায় অভ্যুত্থানের শক্তিগুলো অস্বস্তিতে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে সমঝোতার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে, যার ফলে পদত্যাগের পরিবর্তে নতুন করে কৌশল সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ড. ইউনূস একজন দক্ষ ব্যাংকার, সুবক্তা এবং স্বনামধন্য এনজিও সংগঠক হলেও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি দুর্বল বলে বিবেচিত হচ্ছেন। এ কারণে তাঁর সরকার বারবার সংকটের মুখে পড়ছে। তিনি পদত্যাগের হুমকি দিলেও পরিস্থিতি তাঁর অনুকূলে নেই। বিদেশি মিত্ররাও তাঁকে সতর্ক করে বলেছেন, সরকারকে ঢাকাকেন্দ্রিক নয়, বাংলাদেশকেন্দ্রিক হতে হবে। উপদেষ্টামণ্ডলীর মধ্যে মাত্র ছয়জন ঢাকার বাইরে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, বাকিরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে নীতি নির্ধারণ করছেন, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীসহ রাজনৈতিক দলগুলো ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছে। ড. ইউনূস পূর্বে বলেছিলেন, সংস্কার শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন ২০২৬ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এবং জনগণের প্রত্যাশার চাপে নির্বাচন ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হবে বলে এখন নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, নির্বাচন যত বিলম্বিত হবে, ততই সংকট তীব্র হবে এবং পর্দার আড়ালের শক্তি সুযোগ খুঁজবে।
গত বছরের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের পর ড. ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও অগ্রগতির অভাব এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিরোধ তাঁর প্রশাসনকে চাপে ফেলেছে। বিএনপি নির্বাচনের জন্য তীব্র চাপ দিচ্ছে, এবং জামায়াতে ইসলামী তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়াচ্ছে। এছাড়া, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সতর্কবার্তা এবং সামরিক হস্তক্ষেপের গুজব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, ড. ইউনূসকে তাঁর প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা দূর করতে হবে। উপদেষ্টামণ্ডলীকে আরও গতিশীল এবং জনমুখী করতে হবে। বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে আজকের বৈঠক তাঁর সরকারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁকে রাজনৈতিক দল, ছাত্র সমাজ এবং সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সাধন করতে হবে। অন্যথায়, তাঁর স্বপ্নের “শতভাগ ভোটার উপস্থিতি” এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের লক্ষ্য হুমকির মুখে পড়তে পারে।






















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































