চট্টগ্রাম বন্দর-newsedge4

চট্টগ্রাম বন্দরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির প্রথম দিনে (২৮ জুন, ২০২৫) আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির ফলে পণ্য খালাস ও শুল্কায়ন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বন্দরে পূর্বের অনুমোদনের কারণে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কাজ এখনও চলছে। তবে নতুন জাহাজের নিবন্ধন না হওয়ায় সেগুলো জেটিতে ভেড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রম শিগগিরই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের ৯০ শতাংশের বেশি সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালিত হয়। আমদানি-রপ্তানির শুল্কায়ন থেকে পণ্য খালাস পর্যন্ত সব কার্যক্রম কাস্টমসের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। কাস্টমস কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বন্দরে পণ্য জট বাড়ছে।

রাজস্ব সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকা এই শাটডাউন কর্মসূচি রাজস্ব খাতের সংস্কার ও এনবিআর চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে শুরু হয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে শুল্কায়ন কক্ষগুলোতে কোনো কার্যক্রম হচ্ছে না, এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা নথি নিয়ে কাজ করতে পারছেন না। গত মে মাসে কাস্টমস কর্মকর্তাদের কলমবিরতির সময়ও বন্দরে ৪৩ হাজার কনটেইনারের জট তৈরি হয়েছিল, এবং বর্তমান কর্মসূচির ফলে এই জট আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই অচলাবস্থা দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প, বিশেষ করে পোশাক, চামড়া ও ওষুধ খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বন্দরে পণ্য জমে থাকলে সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত সমাধানের আশা করলেও, কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *