সরকার-newsedge24

অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সব শ্রেণির চাকরিকে অত্যাবশ্যকীয় সেবা হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবিলম্বে কর্মস্থলে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে। রোববার (২৯ জুন, ২০২৫) সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমদানি-রপ্তানি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের জাতীয় স্বার্থে এনবিআরের কাস্টম হাউস, আইসিডি, বন্ড কমিশনারেট, এবং শুল্ক স্টেশনগুলোর সব চাকরিকে অত্যাবশ্যকীয় সেবা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবিলম্বে কাজে ফিরবেন এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী অবৈধ ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবেন, অন্যথায় জনগণ ও অর্থনীতির সুরক্ষায় কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।”

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থা দুর্বলতা, অনিয়ম, এবং দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রের প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম রাজস্ব আদায় করছে, যা বাজেট ব্যবস্থাপনার বড় সীমাবদ্ধতা। এই দুর্বলতা দূর করতে স্টেকহোল্ডারদের পরামর্শে এনবিআর পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, গত দুই মাস ধরে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ব্যানারে কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী আন্দোলনের নামে ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রপ্তানি, এবং রাজস্ব আদায় কার্যক্রম ব্যাহত করছে, যা জাতীয় স্বার্থ ও নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী।

এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের ডাকা “কমপ্লিট শাটডাউন” কর্মসূচির কারণে শনিবার (২৮ জুন) থেকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর, বেনাপোল, সোনামসজিদ স্থলবন্দর, এবং ঢাকা কাস্টম হাউসসহ দেশের সব কাস্টম হাউস ও শুল্ক স্টেশনে রাজস্ব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে পণ্য আমদানি-রপ্তানি ও শুল্কায়ন কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা এনবিআর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং ২০২৫ সালের রাজস্ব নীতি ও ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি জানাচ্ছে।

সরকার জানায়, অর্থবছরের শেষ দুই মাসে এই আন্দোলন রাজস্ব আদায়ে মারাত্মক বাধা সৃষ্টি করেছে, যাকে “পরিকল্পিত ও দুরভিসন্ধিমূলক” বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। সরকার দাবি করেছে, তারা কর্মকর্তাদের দাবি বিবেচনার ঘোষণা দিলেও তারা আলোচনার আহ্বান অগ্রাহ্য করে অনমনীয় অবস্থানে রয়েছে।

১২ মে, ২০২৫-এ প্রকাশিত অধ্যাদেশের মাধ্যমে এনবিআর ভেঙে রাজস্ব নীতি বিভাগ (আরপিডি) এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ (আরএমডি) গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব সংগ্রহের কাজ আলাদা করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়। এই পদক্ষেপ সুশীল সমাজ, অর্থনীতিবিদ, এবং উন্নয়ন সহযোগীদের দীর্ঘদিনের পরামর্শের ফল। তবে, এনবিআর কর্মকর্তারা এর বিরোধিতা করে কলমবিরতি, ধর্মঘট, এবং মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এনবিআরের পূর্ণ ডিজিটালাইজেশন এবং সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো সম্ভব নয়, যা বর্তমানে ৭% এর সামান্য বেশি। আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকও রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে। তবে, আন্দোলনের কারণে সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর বলে সরকার মনে করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *