পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ৬০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১০০ জনের বিরুদ্ধে ছয়টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের স্বাক্ষরে ৩ জুলাই ২০২৫-এ এই গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে বিজি প্রেস (বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়) থেকে, যাতে আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গেজেটে বলা হয়েছে, তফসিলে উল্লিখিত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আদালতের বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে যে, তারা গ্রেফতার ও বিচার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছেন এবং তাদের দ্রুত গ্রেফতারের সম্ভাবনা নেই। ১৯৫৮ সালের ক্রিমিনাল ল অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের ৬(১৩) ধারা অনুযায়ী, তাদের নির্ধারিত তারিখের মধ্যে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায়, তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। মামলাগুলোর পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে ২০ জুলাই ২০২৫-এ।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের সেক্টর ২৭, রোড ২০৩-এর কূটনৈতিক জোনে ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে। ১২ থেকে ১৪ জানুয়ারি ২০২৫-এর মধ্যে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয়, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, টিউলিপ সিদ্দিক, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং আজমিনা সিদ্দিকসহ ১০০ জনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগগুলো পেনাল কোড, ১৮৬০-এর ১৬১/১৬৩/১৬৪/৪০৯/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারার অধীনে দায়ের করা হয়।
আরও পড়ুন: আদালত অবমাননার মামলায় শেখ হাসিনার ৬ মাসের কারাদণ্ড
মামলার বিস্তারিত
- মামলা ১ (দায়ের: ১৪ জানুয়ারি ২০২৫): দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন শেখ হাসিনাসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্তে আরও ৪ জন যুক্ত হয়ে চার্জশিটে আসামির সংখ্যা ১২। তদন্ত করেন সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া।
- মামলা ২ (দায়ের: ১৪ জানুয়ারি ২০২৫): সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্তে আরও ২ জন যুক্ত হয়ে চার্জশিটে আসামি ১৭ জন।
- মামলা ৩ (দায়ের: ১৩ জানুয়ারি ২০২৫): উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন শেখ রেহানাকে প্রধান আসামি করে শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তদন্তে আরও ২ জন যুক্ত হয়ে চার্জশিটে আসামি ১৭ জন। তদন্ত করেন আফনান জান্নাত কেয়া।
- মামলা ৪ (দায়ের: ১৩ জানুয়ারি ২০২৫): সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া আজমিনা স sিদ্দিককে প্রধান আসামি করে শেখ হাসিনা ও টিউলিপসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্তে আরও ২ জন যুক্ত হয়ে চার্জশিটে আসামি ১৮ জন।
- মামলা ৫ (দায়ের: ১৩ জানুয়ারি ২০২৫): সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, টিউলিপ ও শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্তে আরও ২ জন যুক্ত হয়ে চার্জশিটে আসামি ১৮ জন।
- মামলা ৬ (দায়ের: ১২ জানুয়ারি ২০২৫): সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া শেখ হাসিনা ও পুতুলসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্তে আরও ২ জন যুক্ত হয়ে চার্জশিটে আসামি ১৮ জন। এই মামলায় ১৬ জনকে সাক্ষী হিসেবে রাখা হয়েছে।
দুদক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন, “প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির ছয়টি মামলায় গেজেট প্রকাশের জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। বিজি প্রেস থেকে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। আগামী ২০ জুলাই মামলাগুলোর শুনানির তারিখ ধার্য হয়েছে। এই তারিখের মধ্যে আসামিরা আদালতে হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।”
তথ্যসুত্র: বাসস





















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































