প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সাফ জানিয়েছেন, গত তিনটি নির্বাচনকে সার্টিফিকেট দেওয়া পক্ষপাতদুষ্ট বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আগামী নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, “যারা গত তিনটি নির্বাচনকে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য বলে সার্টিফিকেট দিয়েছে, তাদের কোনোভাবেই অনুমোদন দেওয়া হবে না। আমরা অভিজ্ঞ, নির্ভরযোগ্য এবং বিভিন্ন দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পর্যবেক্ষকদেরই আমন্ত্রণ জানাবো।”
মঙ্গলবার (৮ জুলাই, ২০২৫) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিংয়ের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার এক বৈঠক শেষে সিইসি এসব কথা বলেন। বৈঠকে তিনি কানাডার হাইকমিশনারকে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত করেন।
সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশন দেশজুড়ে ভোটার সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। এছাড়া ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, পর্যবেক্ষক ও এজেন্টদের প্রশিক্ষণের বিষয়েও কানাডার পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, “আমরা হাইকমিশনারকে আমাদের প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছি। বিশেষ করে ভোটার শিক্ষা কার্যক্রম এবং নারী ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।”
আরও পড়ুন: নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর ইসি
এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের বিষয়ে সিইসি বলেন, “এআই-এর অপব্যবহার আমাদের জন্য একটি বড় হুমকি। কানাডার গত নির্বাচনে তারা এই সমস্যা মোকাবেলা করেছে। তাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা পরামর্শ চেয়েছি এবং তারা সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।” তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়ে কঠোর অবস্থান সিইসির
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে সিইসি বলেন, “তাদের ২৮টি দেশের পর্যবেক্ষকদের সমন্বয় করে পাঠাতে বলেছি। আমরা আগেভাগে তাদের স্বাগত জানিয়েছি।” তবে তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, পক্ষপাতমুক্ত ও নির্ভরযোগ্য পর্যবেক্ষকদেরই কেবল অনুমোদন দেওয়া হবে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে ভোটারদের অন্তর্ভুক্তি ও সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে কানাডার হাইকমিশনারের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, “আমাদের প্রস্তুতি চলছে। নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং পার্বত্য এলাকায় ভোটার সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করতে আমরা কাজ করছি।”
বৈঠক শেষে কানাডার হাইকমিশনার নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি ও প্রতিশ্রুতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, “কানাডা আমাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আমরা একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে আত্মবিশ্বাসী।”
তথ্যসুত্রঃ বাসস






















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































