দ্য গার্ডিয়ান ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তদন্তে জানা গেছে, ঢাকায় তদন্তাধীন ব্যক্তিরা গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে যুক্তরাজ্যে সম্পত্তি বিক্রি, হস্তান্তর বা পুনঃঅর্থায়ন করেছেন। এই লেনদেনগুলো যুক্তরাজ্যের আইনি ফার্ম ও পরামর্শকদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে, যারা পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই না করেই এই লেনদেনে সহায়তা করেছে বলে প্রশ্ন উঠেছে।
যুক্তরাজ্যের ভূমি রেজিস্ট্রি রেকর্ড অনুসারে, গত এক বছরে ঢাকায় তদন্তাধীন ব্যক্তিদের মালিকানাধীন সম্পত্তির জন্য কমপক্ষে ২০টি লেনদেনের আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সোবহান পরিবারের ২৪.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পত্তি, যারা বাসুন্ধরা গ্রুপের মালিক। নাইটসব্রিজের একটি চারতলা টাউনহাউস গত বছর ইউএই-ভিত্তিক একটি কোম্পানির মাধ্যমে সায়েম সোবহান আনভির থেকে বিনামূল্যে ব্রুকভিউ হাইটস লিমিটেড নামক একটি যুক্তরাজ্যের কোম্পানিতে হস্তান্তর করা হয়, যা পরবর্তীতে ৭.৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডে বিক্রি হয়।
সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান ও একজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রপার্টি ডেভেলপারের সম্পত্তি নিয়েও তদন্ত চলছে। আনিসুজ্জামান গত জুলাইয়ে রিজেন্টস পার্কের কাছে ১০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি টাউনহাউস বিক্রি করেছেন। এছাড়া, সালমান এফ রহমানের ছেলে ও ভাইপো, আহমেদ শায়ান রহমান ও আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের মালিকানাধীন ৩৫ মিলিয়ন পাউন্ডের মেফেয়ারের গ্রসভেনর স্কয়ারের একটি অ্যাপার্টমেন্ট গত মাসে জব্দ করা হয়েছে। রহমান পরিবারের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এই অভিযোগ উঠেছে এবং তারা যুক্তরাজ্যের তদন্তে সহযোগিতা করবেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের মুখপাত্র বলেন, “তদন্তাধীন ব্যক্তিদের জন্য লেনদেন পরিচালনাকারী পেশাদার ফার্মগুলোর কঠোরভাবে সম্পদের উৎস যাচাই করা উচিত। তা না হলে এই অর্থ আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।”
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতের পর প্রায় এক বছর পেরিয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার তীব্র রাজনৈতিক বিভক্তি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে চলছে। এই পটভূমিতে, যুক্তরাজ্যের বিলাসবহুল সম্পত্তি এখন দুর্নীতি তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ঢাকার তদন্তকারীরা অভিযোগ করছেন, হাসিনা সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা রাষ্ট্রীয় চুক্তি ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ লন্ডনের সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করেছেন।
আরও পড়ুন: মমতা ফাঁস করলেন আওয়ামী লীগ নেতাদের কলকাতায় উপস্থিতি
গত মে মাসে, যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থা (এনসিএ), যাকে প্রায়ই ‘ব্রিটেনের এফবিআই’ বলা হয়, রহমান পরিবারের ৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পত্তি জব্দ করে। তিন সপ্তাহ পরে, সাবেক ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ১৭০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি মূল্যের সম্পত্তি জব্দ করা হয়, যার মধ্যে রয়েছে ৩০০টিরও বেশি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও টাউনহাউস।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে জুনের শুরুতে লন্ডন সফরকারী একটি প্রতিনিধি দল দুর্নীতির অভিযোগে সম্পত্তি ট্র্যাক করতে যুক্তরাজ্যের সমর্থন চেয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান মনসুর বলেন, “আমরা সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টার কথা জানি। যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে আরও সম্পত্তি জব্দের আহ্বান জানাই, যাতে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পদ ফেরত আনা যায়।” বাংলাদেশের অ্যান্টি-করাপশন কমিশনের (এসিসি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনও এই আহ্বানের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
তথ্যসুত্র: দ্য গার্ডিয়ান






















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































