প্রধান উপদেষ্টা-মুহাম্মদ ইউনূস-newsedge4

বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে মালয়েশিয়ার প্রভাব, বিশেষ করে ২০২৫ সালে আসিয়ান চেয়ার হিসেবে এর নেতৃত্ব, কাজে লাগাতে চায়। গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় তিন দিনের সফরে আসা বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস মালয়েশিয়ার জাতীয় সংবাদ সংস্থা বারনামাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই আশা ব্যক্ত করেছেন।

ড. ইউনূস বলেন, “রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিজ্ঞতা এবং আসিয়ানে নেতৃত্বের অবস্থান মালয়েশিয়াকে একটি অনন্য অবস্থানে রেখেছে। আমরা আশা করছি, মালয়েশিয়া এই আলোচনায় তার প্রভাব ব্যবহার করবে, যাতে আমরা এই সমস্যার সমাধান করতে পারি।” তিনি সতর্ক করে বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে সংকট আরও গভীর হয়েছে। গত ১৮ মাসে ১.২ মিলিয়ন রোহিঙ্গা শরণার্থী ছাড়াও নতুন করে ১৫০,০০০ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র তাদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সমস্ত তহবিল বন্ধ করে দিয়েছে, যা আমাদের জন্য বিশাল সমস্যা।”

বাংলাদেশ দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে মালয়েশিয়ার প্রভাব, বিশেষ করে ২০২৫ সালে এর আসিয়ান চেয়ারম্যানশিপের ভূমিকা, কাজে লাগাতে চায়। গত সপ্তাহে মালয়েশিয়ায় তিন দিনের সফরে আসা বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস মালয়েশিয়ার জাতীয় সংবাদ সংস্থা বারনামাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

ড. ইউনূস বলেন, “রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিজ্ঞতা এবং আসিয়ানে নেতৃত্বের অবস্থান মালয়েশিয়াকে একটি অনন্য অবস্থানে রেখেছে। আমরা আশা করছি, মালয়েশিয়া এই আলোচনায় তার প্রভাব ব্যবহার করে একটি ব্যাপক আঞ্চলিক সমাধানের পথ তৈরি করবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতা এবং আসিয়ানের নেতৃত্ব এই সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সংকটের গভীরতা

ড. ইউনূস সতর্ক করে বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষ সংকটকে আরও জটিল করেছে। গত ১৮ মাসে নতুন করে ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, যারা পূর্বের ১২ লাখ শরণার্থীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “এটি ক্রমেই আরও জটিল হচ্ছে। সবচেয়ে খারাপ বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তহবিল বন্ধ করে দিয়েছে, যা আমাদের জন্য বিশাল সমস্যা।”

আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পরিকল্পনা

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য বাংলাদেশ আগামী কয়েক মাসে তিনটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।

  • কক্সবাজার সম্মেলন: এ মাসের শেষে কক্সবাজারে, যা ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের গ্রহণের অষ্টম বার্ষিকীর সঙ্গে মিলে যায়।
  • জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন: সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।
  • দোহা সম্মেলন: বছরের শেষে কাতারের দোহায় তৃতীয় সম্মেলন।

এই সম্মেলনগুলোর লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ পুনরুজ্জীবিত করা এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করা।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার এক মহান বন্ধু: আনোয়ার ইব্রাহিম

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের ফলে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে, যা এই সংকটের সূচনা করে। ২০২১ সাল থেকে মিয়ানমারে চলমান সশস্ত্র সংঘাত প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এই সংকট শুধু বাংলাদেশ নয়, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ার মতো আসিয়ান দেশগুলোকেও প্রভাবিত করছে।

মালয়েশিয়া, যদিও ১৯৫১ সালের জাতিসংঘ শরণার্থী কনভেনশন বা ১৯৬৭ সালের প্রোটোকলের স্বাক্ষরকারী নয়, তবুও মানবিক ভিত্তিতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি মোহাম্মদ হাসান জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে আসিয়ান চেয়ার হিসেবে মালয়েশিয়া এই সংকট সমাধানে শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধানের জন্য মিয়ানমারের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।

আসিয়ানের ভূমিকা

আসিয়ানের অ-হস্তক্ষেপ নীতি মিয়ানমারের পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলতে সীমাবদ্ধতা তৈরি করেছে। তবে মালয়েশিয়া রোহিঙ্গা সংকটকে একটি আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে সমন্বিত মানবিক সহায়তা ও মিয়ানমারে সংঘাতের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের সমন্বয়ে একটি আসিয়ান স্পেশাল কমিটি গঠনের প্রস্তাব উঠেছে, যা এই সংকটে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কাজ করবে।

ড. ইউনূস জানান, আন্তর্জাতিক সমর্থন কমে যাওয়া, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তহবিল বন্ধ, রোহিঙ্গা শিবিরে খাদ্য, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবায় ঘাটতি সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, “আমরা জরুরি ত্রাণ থেকে টেকসই সমাধানের দিকে এগোতে চাই—আঞ্চলিক দায়িত্ব ভাগাভাগি, অপরাধের জবাবদিহি এবং নাগরিকত্ব ও প্রত্যাবাসনের সুস্পষ্ট পথ নিশ্চিত করতে হবে।”

বাংলাদেশের এই উদ্যোগে মালয়েশিয়ার নেতৃত্বে আসিয়ানের সমন্বিত পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হবে। রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য একটি মানবিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অগ্রাধিকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *