মরদেহ পোড়ানো মামলায়-newsedge24

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় ৬ জনকে গুলি করে হত্যা ও তাদের মরদেহ পোড়ানোর মামলায় ঢাকার সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই মামলায় পলাতক ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। এর আগে ১৩ আগস্ট স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের জন্য এই দিন ধার্য করা হয়েছিল।

মামলার একজন আসামি, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক শেখ আবজালুল হক, ট্রাইব্যুনালে দোষ স্বীকার করেছেন। তিনি তার আইনজীবীর মাধ্যমে বলেন, “আমি দোষ স্বীকার করছি, আমি স্বেচ্ছায় মামলার সাথে সম্পর্কিত আমার জ্ঞানের মধ্যে থাকা সমস্ত পরিস্থিতির সত্য এবং পূর্ণ প্রকাশ করতে ইচ্ছুক।”

অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, এবং স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্যরা সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নির্দেশনায় শেখ আবজালুল হক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি পুলিশের পিকআপ ভ্যানে থাকা লাশে আগুন দেওয়ার সময় বাধা দেননি এবং জ্বলন্ত ভ্যানের আগুন নিভানোর কোনো চেষ্টাও করেননি।

আরও পড়ুন: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত অজ্ঞাত ৬ জনের মরদেহ দাফন সম্পন্ন

অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং একজন গুরুতর আহত হন। পরে নিহত পাঁচজন ও আহত একজনকে পুলিশ ভ্যানে তুলে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। এই ঘটনার ১ মিনিট ১৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যা মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফি, ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ উত্তরের সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপ-পরিদর্শক আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান, শেখ আবজালুল হক, এবং সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।

আরও পড়ুন: “নো রিলিজ, নো ট্রিটমেন্ট” নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা: ইমরান

গত ১১ সেপ্টেম্বর এই ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা হয়। ১৯ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়, এবং ২ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই মামলাসহ আশুলিয়া লাশ পোড়ানো, চানখারপুল হত্যাকাণ্ড, রামপুরা কার্নিশে গুলি, এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলার তদন্ত প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ পর্যন্ত ৩৩৯টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, এবং ২২টি মামলায় ১৪১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, যার মধ্যে ৫৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *