চার মাস বন্ধ থাকার পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে চাল আমদানি পুনরায় শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট ২০২৫) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ৯টি ভারতীয় ট্রাকে ৩১৫ মেট্রিক টন মোটা চাল বন্দরের ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে প্রবেশ করে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল সর্বশেষ এই বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছিল। দেশের বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সরকার ভারত থেকে চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। আমদানিকারকদের দাবি, এই পদক্ষেপ দেশের বাজারে চালের দাম কমিয়ে আনবে।
আমদানির বিস্তারিত
বেনাপোলের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হাজী মুসা করিম অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সামাদ জানান, গত মঙ্গলবার থেকে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ৩১৫ মেট্রিক টন মোটা চালবোঝাই ৯টি ট্রাক প্রবেশের অপেক্ষায় ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে এই চাল বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। চাল ছাড়করণের জন্য বেনাপোল কাস্টমস হাউসে বিল অব এন্ট্রি জমা দেওয়া হয়েছে, এবং পেট্রাপোল বন্দরে আরও চালবোঝাই ট্রাক অপেক্ষমাণ রয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি আমিনুল হক জানান, খাদ্য মন্ত্রণালয় চলতি বছরের ২৩ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত চাল আমদানির জন্য আবেদন আহ্বান করেছিল। এর ফলে বেনাপোলসহ সারাদেশের আমদানিকারকরা অনুমতির জন্য আবেদন করেন। বেশ কয়েকজন আমদানিকারক অনুমতিপত্র (আইপি) পাওয়ার পর এলসি খুলেছেন, যার ফলে বৃহস্পতিবার থেকে চাল আমদানি শুরু হয়েছে।
আমদানিকারকরা জানান, আগামী রবিবার (২৪ আগস্ট ২০২৫) থেকে আরও আমদানিকারকরা এলসি খুললে চাল আমদানির পরিমাণ বাড়তে পারে। এর ফলে বাজারে চালের দাম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাদের মতে, ভালো মানের চিকন জাতের চালের দাম কেজিপ্রতি ৬৭ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে এবং মোটা স্বর্ণা জাতের চালের দাম ৫০ থেকে ৫২ টাকার মধ্যে থাকবে।
আরও পড়ুন: ভারতে ওয়ালমার্ট এবং অ্যামাজনের মতো ব্রান্ডের অর্ডার স্থগিত
বেনাপোল উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ জানান, আমদানিকৃত চালের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দ্রুত ছাড়করণের জন্য সনদ প্রদান করা হয়েছে। এটি নিশ্চিত করবে যে চাল দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে পারে।
বেনাপোল স্থলবন্দর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর, যা ভারত-বাংলাদেশ স্থল বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। দেশের বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি রোধ করতে এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার এই আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। তবে, আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, শুল্ক কমানো না হলে আমদানির পরিমাণ সীমিত থাকতে পারে।
















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































