প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি-এ এম এম নাসির উদ্দীন-newsedge24

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি বাংলাদেশের সংবিধান বা আইনে নেই। তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন শাসনতন্ত্র ও আইন দ্বারা পরিচালিত, এবং এর বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পিআর পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান তর্ক-বিতর্ক রাজনীতিবিদদের বিষয়, এবং নির্বাচন কমিশন এতে জড়াতে চায় না।

শনিবার (২৩ আগস্ট ২০২৫) সকালে রাজশাহী আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আগে তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনের প্রস্তুতি

সিইসি জানান, প্রধান উপদেষ্টার চিঠি পাওয়ার পর থেকে নির্বাচন কমিশন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে। তিনি বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানের আগে যাতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।” নির্বাচনী রোডম্যাপ আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হতে পারে।

  • ভোটার তালিকা: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা সম্পন্ন হয়েছে।
  • নির্বাচনী সীমানা: সীমানা নির্ধারণের খসড়া প্রকাশিত হয়েছে। আগামী রোববার (২৪ আগস্ট) থেকে সীমানা নিয়ে শুনানি শুরু হবে, যা বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) পর্যন্ত চলবে।
  • নির্বাচনী কেনাকাটা: ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় কেনাকাটার কাজ এগিয়ে চলছে।
  • এআই অপব্যবহার রোধ: সেপ্টেম্বর থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার বন্ধে সচেতনতা ক্যাম্পেইন শুরু হবে।

নাসির উদ্দীন বলেন, স্ট্রাইকিং ফোর্সের পরিবর্তে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কাজ চলছে। তিনি জানান, “সেনাবাহিনী যাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত হয়, সে ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি।” এছাড়া, পূর্ববর্তী নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারদের পুনরায় নিয়োগের পরিকল্পনা নেই।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “আওয়ামী লীগের এই মুহূর্তে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নেই। তাদের বিচার চলছে। বিচার চলাকালীন তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। বিচারের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে তাদের অংশগ্রহণ।” তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, “নির্বাচন হবে কি হবে না, তা নিয়ে আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের ভেতর যেতে চাই না।”

আরও পড়ুন: বর্তমান পরিস্থিতিতে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন উপযোগী নয়

সিইসি জোর দিয়ে বলেন, “ভোটকেন্দ্র দখল করে নির্বাচনে জেতার কোনো সুযোগ নেই।” তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কমিশনের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে কমিশন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সীমানা নির্ধারণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়।

পিআর পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলছে। এই পদ্ধতি বাংলাদেশের সংবিধান বা আইনে না থাকায়, এটি বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন বা নতুন আইন প্রণয়ন প্রয়োজন। সিইসি স্পষ্ট করেছেন যে এটি রাজনীতিবিদদের বিষয়, এবং নির্বাচন কমিশন এই বিতর্কে জড়াবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *