মাহমুদুর রহমান-newsedge24

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। এই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের নামও রয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, এই মামলায় আরও দুই-একজন সাক্ষী জবানবন্দি দেবেন, এরপর যুক্তিতর্ক শুরু হবে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার ১৫তম দিনের সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রসিকিউশন এ মামলায় ৮১ জন সাক্ষীর তালিকা দাখিল করেছিল, যার মধ্যে ৪৫ জনের সাক্ষ্য ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। মাহমুদুর রহমান ৪৬তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

তার জবানবন্দিতে মাহমুদুর রহমান বলেন, ২০১৩ সালে ‘শাপলা গণহত্যার’ আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিচার চলাকালে তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের বিরুদ্ধে স্কাইপ ও ই-মেইলের মাধ্যমে বেলজিয়াম প্রবাসী জিয়াউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে বেআইনি যোগাযোগের প্রমাণ প্রকাশিত হয়। ‘আমার দেশ’ ও বৃটিশ পত্রিকা ‘The Economist’ এই কেলেঙ্কারি প্রকাশ করে। তিনি জানান, বিচারপতি নাসিম রায় লেখা থেকে বিচারিক মতামত পর্যন্ত বাইরের পরামর্শ নিতেন, যা বিচারিক অনিয়ম।

তিনি আরও বলেন, এই কেলেঙ্কারির পর বিচারপতি নাসিম ট্রাইব্যুনাল থেকে পদত্যাগ করলেও তাকে হাইকোর্ট ও পরে আপিল বিভাগে নিয়োগ দেয়া হয়, যা বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

মাহমুদুর রহমান বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটেছে। তিনি দাবি করেন, ২০০৮ সালে ভারতের দিল্লিতে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন ইউ আহমেদ ও ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রণব মুখার্জির মধ্যে শেখ হাসিনাকে নির্বাচনে জয়ী করার চুক্তি হয়। এছাড়া, ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ ছিল পূর্বপরিকল্পিত, যেখানে দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জ দ্বন্দ্ব আড়াল রাখতে মামুনকে পুনরায় আইজিপি করা হয়

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ১৯৯৩ সালে ভারতীয় কূটনীতিক কৃষ্ণণ শ্রীনিবাসনের কাছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে পার্বত্য চট্টগ্রামের সহিংসতার জন্য দায়ী করার প্রচারের অনুরোধ করেছিলেন, যা রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *