অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান স্পষ্ট করে বলেছেন, ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ নেবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো দেশের আচরণ যদি বাংলাদেশের মর্যাদাহানিকর বলে বিবেচিত হয়, তাহলে জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে ‘উগ্র সাম্প্রদায়িক নীতি’ আখ্যা দিয়ে বিসিবি ইতোমধ্যে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, “বাংলাদেশ ওই ভেন্যুতে খেলবে না।”

ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “ভারত আমাদের বৃহত্তম প্রতিবেশী। তার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সবসময় বন্ধুত্বপূর্ণ থাকবে—এটাই আমরা চাই। চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি অব্যাহত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। বাণিজ্যিক সম্পর্ক নষ্ট করার কোনো ইচ্ছা নেই।”

তবে মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস নয় বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “যার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, প্রয়োজনে তার সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলা যায়। কিন্তু কোনো দেশের আচরণ যদি আমাদের দেশের জন্য মর্যাদাহানিকর হয়, তাহলে আমরা রেসপন্ড করার অধিকার রাখি। এই রেসপন্স আমরা অফিসিয়াল চ্যানেলে করেছি। নিজের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও দেশের মর্যাদার স্বার্থে প্রয়োজনে আমরা প্রতিক্রিয়া দেখাবো।”

একটি রাজনৈতিক দলের মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যদি কোনো প্রার্থী বা দল যথাযথ প্রমাণ দিয়ে দেখাতে পারে যে কোনো রিটার্নিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব বা দ্বৈত মানদণ্ড অনুসরণ করেছেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন তা দেখবে। আমাদের হাতে যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ এলে আমরা তা ইসিকে ফরওয়ার্ড করতে পারি।”

প্রসঙ্গত, মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও বিশ্বকাপে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। বিসিবি আইসিসির কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *