জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের চূড়ান্ত অনুমোদনে দেশবাসীকে গণভোটে অংশ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। সোমবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে আপনার একটি ‘হ্যাঁ’ সূচক ভোট হবে ইতিহাসের অংশ।” আগামী মাসেই এই ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ভাষণের শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা গত কয়েক মাসের সংস্কার কার্যক্রমের একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ এবং পুলিশ প্রশাসনে যে আমূল পরিবর্তনের প্রস্তাব সংস্কার কমিশনগুলো জমা দিয়েছে, তা কেবল সরকারের সিদ্ধান্তে কার্যকর করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দেশের সাধারণ মানুষের সরাসরি সমর্থন।
তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমরা কোনো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তে বিশ্বাসী নই। রাষ্ট্র কেমন হবে, শাসনব্যবস্থা কীভাবে চলবে—তা ঠিক করবে জনগণ। তাই আমরা একটি গণভোটের আয়োজন করেছি। আমি আপনাদের অনুরোধ করব, কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন এবং প্রস্তাবিত সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ চিহ্নে সিল দিয়ে আমাদের পথচলাকে ত্বরান্বিত করুন।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারগুলোর আইনি ও নৈতিক বৈধতা নিশ্চিত করতেই এই গণভোটের পথে হাঁটছে প্রশাসন। প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হলে আগে কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি। আর সেই পরিবর্তনের চাবিকাঠি তিনি দেশের মানুষের হাতেই তুলে দিতে চান।
তিনি উপমা টেনে বলেন, “একটি জরাজীর্ণ দালান মেরামতের চেয়ে নতুন করে মজবুত ভিত্তি গড়া শ্রেয়। আমরা সেই ভিত্তিটাই গড়তে চাইছি আপনাদের সম্মতির ভিত্তিতে।” ভাষণে তিনি আরও জানান, এই গণভোট কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা দলের বিপক্ষে নয়, বরং এটি একটি বৈষম্যহীন নতুন ব্যবস্থার পক্ষে গণরায়।
একনজরে গণভোটের মূল দিকগুলো
- উদ্দেশ্য: রাষ্ট্র সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত রূপরেখার ওপর জনসমর্থন যাচাই।
- ভোটের পদ্ধতি: ব্যালট পেপারে কেবল ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ বক্স থাকবে।
- ভোটার তালিকা: হালনাগাদ করা চূড়ান্ত ভোটার তালিকার ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন এই ভোট পরিচালনা করবে।
- নিরাপত্তা: ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
- পর্যবেক্ষণ: দেশি-বিদেশি সংবাদকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে পুরো প্রক্রিয়া।
প্রধান উপদেষ্টার এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বড় দলগুলোর কেউ কেউ বিষয়টিকে স্বাগত জানালেও, দ্রুত নির্বাচনের দাবিও জোরালো হচ্ছে। তবে সরকার বলছে, গণভোটে জনগণের ম্যান্ডেট পেলে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের পথ প্রশস্ত হবে এবং তা হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ।
ভাষণের শেষাংশে প্রধান উপদেষ্টা তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “এই দেশ আপনাদের। আবু সাঈদ-মুগ্ধদের স্বপ্নের সেই বাংলাদেশ গড়তে হলে অলস বসে থাকার সুযোগ নেই। আপনারা যেভাবে জুলাই-আগস্টে রাজপথে দাঁড়িয়েছিলেন, সেভাবেই ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে আমাদের শক্তি জোগান।”






















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































