নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন-তারেক রহমান-newsedge4

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ দেশের মূল সমস্যাগুলো সমাধান করতে হলে অবশ্যই একটি নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। মানুষের নির্বাচিত সরকারই মানুষের সমস্যা সমাধান করতে পারবে।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা-১৭ আসনের ভাসানটেক বিআরপি মাঠে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণার দ্বিতীয় দিনের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

তারেক রহমান বলেন, সারা দেশের মানুষ একটি ভালো পরিবর্তন চায়। তারা চায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা হোক, নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, শিক্ষার্থীরা যথাযথ শিক্ষার সুযোগ পাক। অনেক মানুষ কর্মসংস্থানের অভাবে বিদেশে গেলেও দক্ষতার অভাবে কাক্সিক্ষত সুযোগ পান না। বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনগণকে দক্ষ করে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। আমরা তাদের ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ করে তুলবো যেন তারা এদেশেই কর্মসংস্থান পায়। এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রত্যেক মা ইনশাআল্লাহ ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। যুব সমাজের চাকরির সমস্যা সারা বাংলাদেশের। বিএনপি সরকার গঠন করলে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে একজন নারীকে মাসে ২০০০-২৫০০ টাকা দেওয়া হবে। ফ্যামিলি কার্ড পেতে হলে সারা বাংলাদেশে ধানের শীষের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে হবে। এই এলাকায় আমি ছোট থেকে বড় হয়েছি। আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনসহ সকল সমস্যা সমাধান করবো।

ক্রীড়া ক্ষেত্রের উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, ক্রীড়া ব্যবস্থাকে এমনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই যেন খেলোয়াড়রা প্রফেশনাল হতে পারে এবং খেলা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও পুনর্নির্মাণ করতে হলে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে এলাকাবাসী তাদের সমস্যা তুলে ধরতে পারবে। শুধু সংসদে নয়, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ সকল স্তরে জনপ্রতিনিধি থাকতে হবে। সব জায়গায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের সমস্যা জানতে হবে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি গার্মেন্টস শ্রমিক ও ছাত্রদের মঞ্চে ডেকে এনে তাদের কাছে এলাকার উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা জানতে চান। দলের অনেকে মঞ্চে আসতে চাইলেও তিনি বলেন, দলের কেউ আসতে পারবেন না।

সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, এবার আল্লাহ তাকে এমন সুযোগ দিয়েছেন যেখানে তিনি এমন একজন প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন যিনি নির্বাচিত হলে দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন। দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারের নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশের বাইরে থাকলেও তারেক রহমান দেশের মানুষের কল্যাণে অব্যাহতভাবে কথা বলে গেছেন। ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে তিনি দেশবাসীকে সঠিক পথ দেখাচ্ছেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, একজন প্রার্থী বলেছেন সব ব্যবস্থা হয়েছে, ঢাকার একটি আসনও দেওয়া হবে না। কে নির্বাচিত হবেন সেটা ভোটাররা ফয়সালা করবেন। বিএনপি ১৯৯১ সালে ঢাকা মহানগরের সব আসনে বিজয়ী হয়েছিল। এমন রেকর্ড কারো নেই। অথচ আমরা এমন কথা বলি না।

যারা এ কথা বলেছেন তারা অহংকার প্রকাশ করেছেন। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার আগে খেয়াল রাখবেন—রাষ্ট্র পরিচালনা অনেক বড় কাজ। যার এই কাজের অভিজ্ঞতা নেই, তাকে কি এই দায়িত্ব দেওয়া যায়? বিএনপি ছাড়া আর কারো রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই।

আরও পড়ুন: ‘সব ধর্মের মানুষ নিয়ে ঐক্যবদ্ধ রাষ্ট্র গড়তে হবে’: তারেক রহমান

জনসভায় তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, ফরহাদ হালিম ডোনার, নাজিম উদ্দিন আলম, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মিল্টন, যুবদল সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শেখ ফরিদ হোসেন, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির, ভাসানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক কাদির মাহমুদসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জনসভায় বিকেল থেকেই যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। নারী নেতাকর্মীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন ছিল। এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *