বিএনপি-BNP-flag-newsedge4

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এই ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।

ইশতেহারে বিএনপি মোট ৩৫টি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার করেছে। এর মূল ভিত্তি হিসেবে ১৭ অক্টোবর ২০২৫-এ স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং দলের ‘৩১ দফা’কে গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মেয়াদ সীমিতকরণ এবং বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

ইশতেহারের মূল সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংস্কার প্রস্তাবসমূহের সারাংশ:

  • জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
  • সংবিধানে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন।
  • নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন (জুলাই সনদের ভিত্তিতে রূপরেখা নির্ধারণ; বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রপতিকে এর বাইরে রাখা)।
  • উপরাষ্ট্রপতি পদ সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রপতির মতো নির্বাচিত করা।
  • প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছর নির্ধারণ (দলীয় প্রধানের পদের সঙ্গে একত্রিত রাখার সুযোগ)।
  • রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা।
  • বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ।
  • ১০০ সদস্যবিশিষ্ট উচ্চকক্ষ (সিনেট) প্রবর্তন; নিম্নকক্ষের আসন অনুপাতে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিত্ব; কমপক্ষে ১০% নারী সদস্য।
  • সংসদের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ (আস্থাভোট, অর্থবিল, সংবিধান সংশোধনী ব্যতীত)।
  • উচ্চকক্ষে বিল আটকে রাখার সর্বোচ্চ মেয়াদ ১ মাস; তারপর স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন।
  • আন্তর্জাতিক চুক্তিতে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার; সংসদকে অবহিতকরণ।
  • নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ গঠন।
  • প্রধান বিচারপতি নিয়োগে জ্যেষ্ঠতম বিচারপতির অগ্রাধিকার নিশ্চিতকরণ।
  • সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন রাজধানীতে; বিভাগীয় স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির।
  • সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের এখতিয়ার বৃদ্ধি।
  • জেলা পর্যায়ে স্থায়ী প্রসিকিউশন/অ্যাটর্নি সার্ভিস প্রতিষ্ঠা।
  • সংসদীয় কমিটিগুলোর সভাপতি পদে বিরোধীদলীয় সদস্য নিয়োগ।
  • রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আইনানুগ মানদণ্ড ও নীতি প্রয়োগ।
  • স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের অধীনে; স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতকরণ।
  • পুলিশ কমিশন গঠন; পুলিশ বাহিনীর পেশাদারত্ব ও জনবান্ধবকরণ।
  • জুলাই অভ্যুত্থানকালীন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন।
  • গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি সুরক্ষা।
  • ন্যায়পাল নিয়োগ।
  • ওপেন গভর্নমেন্ট পার্টনারশিপে যোগদান।
  • আয়কর রিটার্ন তলবের ক্ষেত্রে আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ।

আরও পড়ুন: জামায়াতে ইসলামীর ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

ইশতেহার ঘোষণার সময় তারেক রহমান বলেন, এই অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে সত্যিকারের গণতন্ত্র, সুশাসন ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *