নির্বাচনে ডাবল সেঞ্চুরির পর বড় চমক দিলেন তারেক রহমান!

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডাবল সেঞ্চুরির পর বড় চমক দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পৈতৃক ভিটা ও রাজনীতির সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাঠানো এক চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, বিজয়ী দুই আসনের মধ্যে তিনি রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত ঢাকা-১৭ আসনটি নিজের কাছে রাখছেন। ইসি সচিব আখতার আহমেদ আজ বিকেলে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

শেকড় বনাম কৌশল: ঢাকার রাজনীতিতেই ফোকাস

রাজনীতিতে আবেগ আর কৌশলের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কৌশলই জয়ী হলো। বগুড়া বরাবরই বিএনপির দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত এবং তারেক রহমানের রাজনৈতিক উত্থানের শুরুও এই মাটি থেকে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামীর রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থান করাটাই তার জন্য বেশি সুবিধাজনক। ঢাকা-১৭ আসনটি (গুলশান-বনানী-ক্যান্টনমেন্ট) দেশের রাজনীতির ‘পাওয়ার হাউস’ হিসেবে পরিচিত, যেখান থেকে পুরো দেশের নাড়ি চেনা সম্ভব।

ইসি সচিব জানান, “বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ বিকেলে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি বগুড়া-৬ আসন থেকে পদত্যাগ করার এবং ঢাকা-১৭ আসনটি বহাল রাখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন।” নিয়মানুযায়ী, কোনো ব্যক্তি একাধিক আসন থেকে বিজয়ী হলে শপথ নেওয়ার আগেই একটি আসন বেছে নিতে হয় এবং অন্যটি ত্যাগ করতে হয়। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের আগেই এই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেন তিনি।

বগুড়ায় শূন্যতা, ঢাকায় উচ্ছ্বাস

বগুড়ার নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা মন খারাপের আবহ থাকলেও দলের বৃহত্তর স্বার্থে তারা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে, ঢাকার বনানী-গুলশান এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরণের বাড়তি উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কারণ, দেশের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান যদি এই আসনের সংসদ সদস্য থাকেন, তবে অত্র এলাকার উন্নয়ন ও গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্রমতে, বগুড়া-৬ আসনটি এখন শূন্য ঘোষণা করা হবে এবং সেখানে ৯০ দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দল থেকে এই আসনে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। তবে তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্ত এটিই প্রমাণ করে যে, তিনি এখন আঞ্চলিক রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে পুরোদস্তুর জাতীয় নেতৃত্বের কেন্দ্রে নিজেকে শক্তপোক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।

তারেক রহমানের নির্বাচনি পরিসংখ্যান ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি:

তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক নির্বাচনি যাত্রার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিচে দেওয়া হলো:

  • বগুড়া-৬ ফলাফল: তিনি ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছিলেন ৯৭,৬২৬ ভোট।

  • ঢাকা-১৭ ফলাফল: রাজধানীর এই হেভিওয়েট আসনে তিনি ৭২,৬৯৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। এখানে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের স ম খালিদুজ্জামান (৬৮,৩০০ ভোট)।

  • সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা: সংবিধানের ৭১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, একই ব্যক্তি একাধিক নির্বাচনি এলাকার সংসদ সদস্য থাকতে পারেন না।

  • শপথ গ্রহণ: আগামীকাল ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেবেন।

  • উপ-নির্বাচন: বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষিত হওয়ায় সেখানে তিন মাসের মধ্যে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তারেক রহমানের ঢাকা-১৭ আসন বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে এটি স্পষ্ট যে, নতুন সরকার কেবল প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুও রাজধানীর এই ভিআইপি জোনে রাখতে চায়।

আগামীকাল শপথ গ্রহণের পর তিনি সরাসরি সংসদীয় দলের সভায় অংশ নেবেন, যেখানে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সংসদ নেতা’ ও ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *