এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হলো বাংলাদেশ। দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক নির্বাসন ও টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক জমকালো অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। একই অনুষ্ঠানে পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে ২৫ জন এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ২৪ জন শপথ গ্রহণ করেছেন।

শপথের আঙিনায় নতুন ইতিহাস

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা আজ পরিণত হয়েছিল এক রাজনৈতিক মিলনমেলায়। গতানুগতিকভাবে বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হওয়ার রীতি ভেঙে এবার সংসদ চত্বরেই আয়োজিত হয় এই মেগা অনুষ্ঠান। বিকেল ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় মূল আনুষ্ঠানিকতা।

তারেক রহমান যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিচ্ছিলেন, তখন চারিদিকে ধ্বনিত হচ্ছিল গগনবিদারী স্লোগান। প্রায় ১৭ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বিএনপির এই প্রত্যাবর্তনকে দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘নতুন যুগের সূচনা’ হিসেবে দেখছেন।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাত থেকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার এই হস্তান্তরকে সাধুবাদ জানিয়েছে উপস্থিত দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা।

মন্ত্রিসভার বিন্যাস ও আগামীর নেতৃত্ব

তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও নবীনের এক চমৎকার সমন্বয় দেখা গেছে। শপথ নেয়া ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রীর তালিকায় রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ড. খলিলুর রহমানের মতো জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও প্রযুক্তিবিদরা। এছাড়া ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে তরুণ নেতৃত্বের প্রাধান্য দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

একনজরে নতুন সরকারের প্রধান তথ্যসমূহ:

* প্রধানমন্ত্রী: তারেক রহমান।
* মোট মন্ত্রিসভা: ৪৯ সদস্য বিশিষ্ট (২৫ মন্ত্রী, ২৪ প্রতিমন্ত্রী)।
* স্থান: জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা।
* শপথ পাঠ করিয়েছেন: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
* উপস্থিতি: ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লাসহ ১০টিরও বেশি দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি।

প্রেক্ষাপট ও জনআকাঙ্ক্ষা

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন লাভ করে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

শপথ গ্রহণ শেষে জাতির উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “এই বিজয় আমার নয়, এই বিজয় দেশের সাধারণ মানুষের। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা এবং একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *