কোরবানির বর্জ্য অপসারণে মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম কতটা কার্যকরভাবে চলছে, তা সরেজমিনে দেখতে শুক্রবার বিকেলে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেল ৪টা থেকে তিনি নিজেই গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট স্পট ঘুরে দেখেন বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বিপুল পরিমাণ পশু কোরবানির পর যে বর্জ্য তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত ও সঠিকভাবে অপসারণ হচ্ছে কিনা—সেটিই পর্যবেক্ষণ করতে মাঠে নামেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন রুট ঘুরে দেখেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন।”

জানা গেছে, গুলশান অ্যাভিনিউয়ের বাসা থেকে বের হয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে গুলশান-১ নম্বর সড়ক হয়ে হাতিরঝিল এলাকায় যান। সেখান থেকে তিনি রামপুরা রোড, মালিবাগের আবুল হোটেল মোড়, তালতলা মার্কেট এবং বাসাবো সড়ক ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পথে পথে বিভিন্ন এলাকায় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ, সড়কের অবস্থা এবং বর্জ্য অপসারণের গতি খেয়াল করেন তিনি।

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন প্রতি বছরই কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের লক্ষ্যে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এবারও অতিরিক্ত জনবল, গাড়ি এবং অস্থায়ী বর্জ্য সংগ্রহ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় বর্জ্য অপসারণে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে অলিগলি ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এখনো দুর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কোরবানির সময় নগর ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো দ্রুত বর্জ্য অপসারণ। সময়মতো পরিষ্কার না হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষণের আশঙ্কাও তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নিজে মাঠে নেমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে তৎপরতা আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা সড়ক ধোয়া, ময়লা অপসারণ এবং জীবাণুনাশক ছিটানোর কাজ করছেন। কোথাও কোথাও স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। তবে বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় বর্জ্য দ্রুত সরানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে

  • শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী
  • নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন রুট ঘুরে দেখেন তারেক রহমান
  • গুলশান, হাতিরঝিল, রামপুরা, মালিবাগ ও বাসাবো এলাকায় পরিদর্শন করেন
  • কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ছিল সফরের মূল উদ্দেশ্য
  • পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অতিরিক্ত জনবল ও যানবাহন ব্যবহার করা হচ্ছে

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু ঈদের সময় নয়, সারা বছর টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ। আধুনিক বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা, নাগরিক সচেতনতা এবং সমন্বিত নগর ব্যবস্থাপনা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রীর এই আকস্মিক মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন প্রশাসনের জন্য একটি বার্তাও বহন করছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। নাগরিক সেবার মান এবং নগর ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সরাসরি নজরদারির বিষয়টি জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তাদের অভিমত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *