হাইকোর্ট-newsedge24

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী কাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই, ২০২৬) এই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ বুধবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে আংশিক শুনানি শেষে রায় ঘোষণার এই দিন নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর অংশবিশেষ অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। ওই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তিসংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারাকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত হওয়া ৭(ক), ৭(খ) ও ৪৪(২) অনুচ্ছেদও বাতিল করা হয়।

পরবর্তীকালে ২০২৫ সালের ৮ জুলাই হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর পঞ্চদশ সংশোধনী আইনটি সম্পূর্ণ বাতিল চেয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি ‘লিভ টু আপিল’ (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং মোফাজ্জল হোসেন পৃথকভাবে লিভ টু আপিল করেন। গত ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে এই আপিলের অনুমতি দিয়েছিলেন।

মামলার শুনানিতে চার বিশিষ্ট ব্যক্তির পক্ষে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া। অন্যদিকে মিয়া গোলাম পরওয়ার ও মোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

শুনানি শেষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, “পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা কার্যত সংবিধান পুনর্লিখনের শামিল।”

আরও পড়ুন:  সরকারি অনুষ্ঠানের ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ

তিনি আদালতে যুক্তি তুলে ধরে আরও বলেন, সংবিধানের নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো মূলত সংসদের বিবেচনার বিষয়। কোন সংশোধনী বহাল থাকবে বা পরিবর্তন হবে, সে সিদ্ধান্ত আদালতের পরিবর্তে সংসদের নেওয়া উচিত। সংবিধানের প্রস্তাবনায় আনা পরিবর্তনগুলোর বিষয়েও আদালতের পরিবর্তে সংসদই ‘জুলাই চার্টার’-এর আলোকে বিতর্ক ও সিদ্ধান্ত নিক বলে এই আইনজীবী মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *