বাংলাদেশের চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সরাসরি সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দুই নেতার টেলিফোন আলোচনায় এলএনজি সরবরাহ, কারিগরি সহায়তা ও বিকল্প উদ্যোগ নিয়ে কথা হয়। আনোয়ার ইব্রাহিম দ্রুত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
একই দিনে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান, দেশীয় চিকিৎসা প্রযুক্তির উন্নয়নে সরকারের পূর্ণ সমর্থন এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়ে সরকারের উন্নয়ন ও কূটনৈতিক তৎপরতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সমস্যার গুরুত্ব উপলব্ধি করে প্রধানমন্ত্রী সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে একটি পত্র পাঠান, যা শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন কুয়ালালামপুরে হস্তান্তর করেন। পরদিন বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টায় তারেক রহমান আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে ফোনে কথা বলে সহযোগিতা কামনা করেন।
আনোয়ার ইব্রাহিম আশ্বস্ত করেছেন যে, সংকট নিরসনে যা কিছু সম্ভব, তিনি দ্রুত তার দল ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করবেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সুযোগ নিয়ে কাজ চলছে। এ ছাড়া তাদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ বা সম্পদ ভাগাভাগির মতো বিকল্প পথও খোলা রয়েছে।
অন্যদিকে মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন খাতে জাপানের আরও সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বানও জানান তিনি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা উনো ইয়োশিমাসার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে এ আলোচনা হয়।
আরও পড়ুন: বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদ বলে তাদের ‘জ্ঞানের অভাব’ আছে: মির্জা ফখরুল
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানান, বৈঠকে কৌশলগত অংশীদারত্ব সুদৃঢ়করণ, বাণিজ্য-অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল ও এমআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জাপানি ভাষায় দক্ষ বাংলাদেশি স্বাস্থ্যকর্মী, কৃষি শ্রমিক ও গাড়িচালক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের মতো আরও একটি শিল্প পার্ক স্থাপনে জাপান আগ্রহী হলে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
এ ছাড়া দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ভেন্টিলেটর ও হাই-ফ্লো অক্সিজেন মেশিন প্রস্তুতকারকদের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এগুলো ব্যবহার উপযোগী ও বাজারজাত করতে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি। মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এক সভায় সংশ্লিষ্টরা যন্ত্র দুটির কার্যকারিতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। অনুমোদন ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শেষে দেশের হাসপাতালে ব্যবহারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানানো হয়। দেশীয় উৎপাদনের কারণে এগুলো তুলনামূলক কম খরচে বাজারজাত করা যাবে।
আরও পড়ুন: সেমিকন্ডাক্টর হতে পারে বাংলাদেশের অর্থনীতির নতুন চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী
একই দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, এটি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে গুণগত পরিবর্তন, কার্যকর তদারকি ও সময়োপযোগী পরিকল্পনা অব্যাহত থাকবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা ও পেশাদারত্ব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞ শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































