উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান-newsedge4

ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য আদালতের নির্দেশ অমান্য করে প্রচার করলে সরকার ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আগেও এ বিষয়ে সরকার গণমাধ্যমের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছিল। যদি কেউ আগাম প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং সেটি প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তবে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।’ তিনি সবাইকে এ ধরনের কাজ না করার জন্য স্মরণ করিয়ে দেন।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, আদালতের নির্দেশনা মানা প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এবং সরকারের কাজ হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। তিনি ব্যক্তিগত মতামত তুলে ধরে বলেন, যদি কোনো আইনজীবী বা ব্যক্তি আদালতের আদেশের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে তারা আদালতে গিয়ে সেই রায় চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বহাল থাকবে, ততক্ষণ সেটি সবাইকে মেনে চলতে হবে।

শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যে দেশে ফেরার ঘোষণা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকার তাকে ফিরিয়ে আনতেই চায়। এজন্য ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে একই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। এরপর তিনি আইনজীবী নিয়োগ, আত্মপক্ষ সমর্থনসহ আইনে নির্ধারিত সব সুযোগ পাবেন। আদালতের চূড়ান্ত রায় সরকার মেনে নেবে।’ তিনি জানান, সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাস করে এবং শেখ হাসিনার ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

হাসিনার রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অতীতেও তার বিভিন্ন আহ্বানের বাস্তব কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। যদিও কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তাকে সমর্থন করতে পারেন, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে সরকারকে চ্যালেঞ্জ দেওয়ার মতো নৈতিক বা সাংগঠনিক শক্তি তাদের নেই বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন:

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

প্রশাসনে প্রাক্তন সরকারের প্রভাব রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলেও ১৫ বছর ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্বে থাকা মানুষদের সবাইকে একদিনে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আগের সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষ এখনো রয়েছেন। চাইলেই এত মানুষকে একসঙ্গে সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। নতুনদের আনতে সময় লাগে এবং তাদের দক্ষতা অর্জনেরও বিষয় রয়েছে।’

তথ্য উপদেষ্টা জানান, সরকার ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করছে, কিন্তু এমনভাবে নয় যাতে রাষ্ট্রের সেবাদান ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। এ সময় মানুষের কাছে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ বৃহস্পতিবার জামিন পাওয়ার তথ্য সরকার দুই-তিন দিন পর জানল কেন—এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, তিনি এ বিষয়ে নিশ্চিত নন এবং তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারছেন না। তবে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিষয়টি পৌঁছে দেবেন এবং কেন এ ধরনের গ্যাপ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান।

1 comment on “নির্দেশ অমান্য করে হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা নেবে সরকার”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *