পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার সোমবার (৫ মে) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্স প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছে।
পোস্টে বলা হয়, আলাপকালে ইসহাক দার ভারতের অপ্রমাণিত অভিযোগ এবং সিন্ধু পানিচুক্তি (ইন্দাস ওয়াটার্স ট্রিটি) স্থগিতসহ একতরফা পদক্ষেপের কারণে দক্ষিণ এশিয়ায় সৃষ্ট আঞ্চলিক উত্তেজনার বিষয়ে তৌহিদ হোসেনকে অবহিত করেন। তিনি ভারতের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষের প্রতি সংযমী থাকার এবং উত্তেজনা প্রশমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সংলাপের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
আলোচনায় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা উচ্চপর্যায়ের নিয়মিত বৈঠক এবং আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতা বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। গত বছর ৫ আগস্ট বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠার পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে। গত মার্চে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচ ঢাকা সফর করেন, যখন ইসহাক দারের বাংলাদেশ সফরের সম্ভাব্য তারিখ (২৭-২৮ এপ্রিল) ঘোষণা করা হয়।
তবে, ২২ এপ্রিল ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পাহালগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। ভারত এই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে, যদিও ইসলামাবাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারত সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত, পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল এবং কূটনৈতিক সম্পর্ক সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নেয়। পাকিস্তানও প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভারতীয় কূটনীতিকদের বহিষ্কার, বাণিজ্য পথ বন্ধ এবং ১৯৭২ সালের শিমলা চুক্তি স্থগিতের হুমকি দেয়।
এই উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৪ এপ্রিল জানায়, ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির’ কারণে ইসহাক দারের বাংলাদেশ সফর স্থগিত করা হয়েছে। দুই দেশের আলোচনার ভিত্তিতে সফরের নতুন তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।
ইসহাক দার আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে রাশিয়া, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোন আলাপ করেছেন। তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে এই ইস্যু উত্থাপনের জন্য পাকিস্তানের প্রতিনিধিকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাকিস্তান পাহালগাম হামলার বিষয়ে একটি ‘স্বাধীন ও স্বচ্ছ’ তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং ভারতের অভিযোগকে ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































