আগামী জাতীয় নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পরস্পরবিরোধী অবস্থানে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দিয়েছেন, নির্বাচন এ বছরের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে, বিএনপি দাবি করছে, নির্বাচন অবশ্যই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে হতে হবে। এই মতপার্থক্যের প্রেক্ষাপটে বিএনপি সরকারকে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার জন্য এক মাসের সময় দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না এলে জুলাই থেকে তারা মাঠের কর্মসূচি শুরু করবে, যা নির্বাচন আদায়ে কঠোর আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।
প্রফেসর ইউনূস গত বৃহস্পতিবার টোকিওর নিক্কেই ফোরামে বলেন, শুধু একটি দল (বিএনপি) ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়, কিন্তু সব দল এই অবস্থানে নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন, এবং তাই ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অবস্থানের পক্ষে তিনি যুক্তি দেন যে, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের সংস্কার, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা জরুরি।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, গত বুধবার ঢাকার নয়াপল্টনে এক সমাবেশে স্পষ্টভাবে বলেন, “ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হতেই হবে।” তিনি জানান, এর বাইরে দলটি অন্য কোনো সময়সীমা বিবেচনা করছে না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, “যত দ্রুত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব, ততই দেশের জন্য মঙ্গল। আমরা সরকারের বিবেচনাবোধ জাগ্রত হওয়ার জন্য আরও কিছু সময় অপেক্ষা করব।” তবে তিনি এও বলেন, শুধু বিএনপি নয়, যুগপৎ আন্দোলনের শরিক এবং সমমনা দলগুলোও ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়, যা প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিএনপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুন পর্যন্ত তারা মাঠের কর্মসূচি থেকে বিরত থাকবে। এই সময়ে পবিত্র ঈদুল আজহা (৭ জুন) উদযাপনের কারণে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত সময় কেটে যাবে। তবে, জুলাই থেকে নতুন কর্মসূচি শুরু হবে, যা আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এই সময়ে সরকারের অবস্থান এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি আরও স্পষ্ট হবে বলে দলটির নেতারা মনে করেন। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনের জন্য আমাদের কার্যক্রম চলবে। জুলাইয়ে কর্মসূচি থাকবে, এবং ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে অবশ্যই আমাদের কর্মসূচি থাকবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণ-অভ্যুত্থানে বিএনপি এবং যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের ভূমিকা ছিল মুখ্য।
বিএনপির নেতারা গত বুধবারের নয়াপল্টনের সমাবেশকে গত ২৮ অক্টোবর, ২০২৩-এর পর সবচেয়ে বড় জমায়েত হিসেবে বিবেচনা করছেন। এই সমাবেশের মাধ্যমে দলটি তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে, এবং মে মাসজুড়ে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আটটি সেমিনার ও সমাবেশ এই লক্ষ্যে সফল বলে তারা মনে করেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্ট রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময় হবে। এই সময়ে নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে সরকারের প্রকৃত মনোভাব স্পষ্ট হতে পারে। ৫ আগস্ট, ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি, যখন ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয় এবং শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান, এই উপলক্ষে বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলনসহ বিভিন্ন দল কর্মসূচি নেবে। তবে এই কর্মসূচির ধরন এখনো চূড়ান্ত হয়নি, এবং দলগুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ আলোচনা চলছে।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































