আদালত অবমাননার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১, একই মামলায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা শাকিল আকন্দ বুলবুল ওরফে মো. শাকিল আলমকে ২ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২ জুলাই, ২০২৫) দুপুরে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তদের গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণের দিন থেকে এই কারাদণ্ড কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রেক্ষাপট: এই মামলার উৎপত্তি হয় শেখ হাসিনার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে, যেখানে তিনি বলেছিলেন, “আমার বিরুদ্ধে ২২৭টি মামলা হয়েছে, তাই ২২৭ জনকে হত্যার লাইসেন্স পেয়ে গেছি।” এই বক্তব্যের একটি অডিও ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে এটি শেখ হাসিনার বলে সত্যতা নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে প্রসিকিউশন এই বক্তব্যকে আদালত অবমাননার অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপন করে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে।
৩০ এপ্রিল, ২০২৫-এ চিফ প্রসিকিউটর আদালত অবমাননার অভিযোগ দাখিল করেন। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গ্রহণ করে ১৫ মে’র মধ্যে শেখ হাসিনা ও শাকিল আলম বুলবুলকে জবাব দাখিলের নির্দেশ দেন। কিন্তু তারা জবাব দাখিল না করায় ২৫ মে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিনও তারা হাজির না হওয়ায় আদালত বহুল প্রচারিত দুটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন।
১৯ জুন, ২০২৫-এ মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শেখ হাসিনা ও শাকিল আলম বুলবুল হাজির না হওয়ায় আদালত সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিউজ্জামানকে অ্যামিকাস কিউরি এবং আমিনুল গনি টিটুকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দেয়। তবে আমিনুল গনি টিটু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে নিয়ে ফেসবুক পোস্ট দেওয়ায় নৈতিক ও পেশাগত কারণে ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ উল্লেখ করে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে ৬ মাস এবং শাকিল আলম বুলবুলকে ২ মাসের কারাদণ্ড ঘোষণা করে। রায়ে বলা হয়, অভিযুক্তদের বক্তব্য আদালতের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি এবং বিচারকাজে হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
এই রায় এমন এক সময়ে এসেছে যখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, দুর্নীতি, অপহরণ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ১৫২টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এছাড়া, জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরও মামলার শুনানি চলমান।
তথ্যসূত্র- বাসস





















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































