মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি-newsedge4

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি এলাকায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এফটি-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী চিকিৎসক মো. সায়েদুর রহমান এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

গত সোমবার (২১ জুলাই ২০২৫) দুপুর ১টা ৬ মিনিটে কুর্মিটোলার এ.কে. খন্দকার বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই এফটি-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দোতলা ভবনে বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি স্কুলের মূল ফটকের কাছে আঘাত করে, যার ফলে ভবনে ছিদ্র সৃষ্টি হয় এবং আগুন ধরে যায়।

এ ঘটনায় পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ তৌকির ইসলামসহ ৩১ জন নিহত হন। নিহতদের অধিকাংশই স্কুলের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থী।

আহতদের হাসপাতালে ভর্তির তথ্য

দুর্ঘটনায় আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে

  • কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল: ৮ জন
  • জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট: ৪৬ জন
  • ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ৩ জন
  • সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), ঢাকা: ২৮ জন
  • লুবনা জেনারেল হাসপাতাল: ১৩ জন
  • উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ৬০ জন
  • উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল: ১ জন
  • শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ১ জন
  • ইউনাইটেড হাসপাতাল: ২ জন
  • কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল: ৩ জন

নিহতদের মধ্যে ২৯ জন শিশু, এবং অনেকের দেহ এতটাই পুড়ে গেছে যে তাদের শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। এ পর্যন্ত ২০ জনের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

টনার পরপরই বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং পুলিশ উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। আহতদের দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে রক্তদানের জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। মো. সায়েদুর রহমান জানান, রক্তের জন্য পর্যাপ্ত ডোনার রয়েছে, তবে নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি হাসপাতালে অতিরিক্ত ভিড় না করার জন্য সবাইকে অনুরোধ করেন।

তদন্ত ও সরকারি পদক্ষেপ

বিমানবাহিনীর ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানায়, পাইলট তৌকির ইসলাম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে বিমানটিকে কম জনবহুল স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে, দুর্ভাগ্যবশত বিমানটি স্কুলের ভবনে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার কারণ তদন্তের জন্য বিমানবাহিনী একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার জন্য যান্ত্রিক ত্রুটিকে দায়ী করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “বিমানবাহিনী, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও কর্মীদের এই ক্ষতি অপূরণীয়। এটি জাতির জন্য গভীর শোকের মুহূর্ত।” তিনি আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসা ও ত্রাণে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে, এবং সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

আরও পড়ুন: মেধাবী পাইলট তৌকির ইসলাম সাগরের করুণ বিদায়

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে আহতদের দেখতে যান এবং শোক প্রকাশ করেন। বিএনপি এক্স-এ বলে, “এই ট্র্যাজেডির মুখে আমরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।” জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের নির্ধারিত সমাবেশ স্থগিত করে এবং নেতারা ঢাকায় ফিরে আসেন।

ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশের সরকার ও ক্রীড়াবিদ শাকিব আল হাসান, তামিম ইকবালের মতো ব্যক্তিত্ব শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *