জি এম কাদের-newsedge4

ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালত জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের এবং যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলমের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া, দলের গঠনতন্ত্রের ২০(১)(ক) ধারা ব্যবহারের ওপরও অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে, জি এম কাদেরের আদেশে অব্যাহতি পাওয়া ১০ জন নেতার প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল সাংগঠনিক পদ ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৫) বিচারক মো. নুরুল ইসলাম প্রদান করেন, যা আজ সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাখাওয়াত হোসেন নিশ্চিত করেছেন।

পদ ফিরে পাওয়া নেতারা হলেন: সিনিয়ার কো-চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, সিনিয়ার কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু, দপ্তর সম্পাদক-২ এম.এ রাজ্জাক খান, প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠ (চট্টগ্রাম), প্রেসিডিয়াম সদস্য নাজমা আকতার (ফেনী), প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম জহির (টাঙ্গাইল), প্রেসিডিয়াম সদস্য মোস্তফা আল মাহমুদ (জামালপুর), প্রেসিডিয়াম সদস্য জসীম উদ্দিন (নেত্রকোনা) এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য আরিফুর রহমান খান (গাজীপুর)

বিচারক তাঁর আদেশে উল্লেখ করেন, মামলা বিচারাধীন থাকা পর্যন্ত জি এম কাদের ও মাহমুদ আলমের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। এ ছাড়া, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দলের গঠনতন্ত্রের ২০(১)(ক) ধারা প্রয়োগ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন, জেষ্ঠ্যতার ভিত্তিতে ক্রমানুসারে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী আব্দুল বারী জানান, আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জি এম কাদেরের সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া, অব্যাহতি পাওয়া ১০ জন নেতার প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পদবী ফিরিয়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: জনগণ শক্তিশালী হলে ফ্যাসিবাদ কায়েম সম্ভব নয়: তারেক রহমান

মামলাটি গত ১০ জুলাই দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে বহিষ্কারাদেশ প্রাপ্ত নেতারা বাদী হয়ে জি এম কাদেরসহ চার জনকে বিবাদী করেছিলেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই তৎকালীন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা গঠনতন্ত্রের পরিপন্থিভাবে জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। একই বছরের ২৮ ডিসেম্বর জি এম কাদের একটি সম্মেলন ও কাউন্সিলের মাধ্যমে অবৈধভাবে নতুন গঠনতন্ত্র অনুমোদন করেন। সর্বশেষ, ২০২৫ সালের ২৮ জুন প্রাথমিক সদস্য পদসহ ১০ জন নেতার সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং জাতীয় পার্টির ওয়েবসাইট থেকে তাঁদের নাম মুছে ফেলা হয়, যা বাদী পক্ষ অবৈধ বলে দাবি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *