প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস-newsedge24

‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (৫ আগস্ট, ২০২৫) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রমজানের আগে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আমি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে চিঠি পাঠাব, যেন নির্বাচন কমিশন আগামী রমজানের আগে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করে।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, “এবার আমাদের সর্বশেষ দায়িত্ব পালনের পালা। নির্বাচন অনুষ্ঠান। আজ এই মহান দিবসে এই বক্তব্য রাখার পর থেকে আমরা আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করব। আমরা একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করব।” তিনি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “আপনারা সকলেই দোয়া করবেন যেন সুন্দরভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং এ দেশের সকল নাগরিক একটি ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার কাজে সফলভাবে এগিয়ে যেতে পারে।”

নির্বাচনকে উৎসবমুখর করার লক্ষ্যে তিনি বলেন, “এবারের নির্বাচন যেন আনন্দ-উৎসব, শান্তি-শৃঙ্খলা, ভোটার উপস্থিতি এবং সৌহার্দ্যের দিক থেকে দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকে। আগামীকাল থেকে আমরা মানসিক প্রস্তুতি ও প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন শুরু করব।”

আরও পড়ুন: গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে প্রধান উপদেষ্টার জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ

প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, “এবার আমরা প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার আয়োজন নিশ্চিত করতে চাই। অর্থনৈতিকভাবে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছে আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের ঐতিহাসিক অবদানের কারণে। নির্বাচন কমিশন তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

নারী ভোটারদের অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “নারী ভোটাররা যেন দেশের সর্বত্র নির্দ্বিধায় এবং আনন্দ-উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে চাই। কেন্দ্রে কেন্দ্রে নারী ভোটারদের ঢল নামবে, সেই লক্ষ্যে আমরা সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

গত ১৫ বছর ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত নাগরিকদের কথা উল্লেখ করে ইউনূস বলেন, “এবারের নির্বাচনে আমরা মহা আনন্দে ভোট দিতে চাই। এর মধ্যে এমন ভোটার থাকবেন যারা জীবনে প্রথমবার ভোট দিতে যাবেন। কেউ ১৫ বছর, ১০ বছর বা ৫ বছর আগে ভোট দিতে পারতেন, কিন্তু পারেননি। আবার এমন ভাগ্যবানরাও থাকবেন যারা প্রথমবার ভোটার হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে সঙ্গে সঙ্গে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।”

নির্বাচনের দিনকে ঈদের উৎসবের মতো করার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ভোটের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। আপনারা সবাই বাচ্চাকাচ্চাদের নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। নাগরিক অধিকার প্রয়োগের এই মহা আনন্দ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। এখন থেকে আলোচনা করুন, আপনার এলাকায় ভোটদান ব্যবস্থা কেমন হলে সুন্দর ও আনন্দমুখর হবে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি রচিত হবে এবারের নির্বাচনে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *