বাংলাদেশের সরকারি অফিস ও বিদেশস্থ কূটনৈতিক মিশন থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ছবি সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা লিখিতভাবে না এলেও টেলিফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন মিশন ও অফিসে জানানো হয়েছে। সর্বশেষ ১৫ আগস্ট ২০২৫ তারিখে লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকেও প্রেসিডেন্টের ছবি নামানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক জটিলতার বিষয়টি উঠে এসেছে, যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।
নির্দেশনার বিস্তারিত
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ১৫-১৬ আগস্ট ২০২৫ তারিখে টেলিফোনের মাধ্যমে বিদেশস্থ বাংলাদেশের দূতাবাস, হাইকমিশন, কনস্যুলেট এবং কূটনীতিকদের অফিস ও বাসভবন থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি তাৎক্ষণিকভাবে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের তদারকির জন্য অঞ্চলভিত্তিক রাষ্ট্রদূতদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে, বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে এখন কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে না।
সরকারি অফিসগুলোতেও একইভাবে প্রেসিডেন্টের ছবি নামানোর কাজ প্রায় শেষ। যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, যেখানে প্রধানমন্ত্রী বা অন্য শীর্ষ সরকারি ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শিত হচ্ছে না, সেখানে শুধু প্রেসিডেন্টের ছবি রাখার প্রয়োজন নেই।
সাংবিধানিক জটিলতা
দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং প্রস্তুতিও প্রায় সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই পরিকল্পনা বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে বলা হয়, তাঁর বিদেশে অবস্থানের সময় দেশ একটি সাংবিধানিক সংকটে পড়তে পারে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু বর্তমান স্পিকার পদত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন, এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে। ফলে, দায়িত্ব গ্রহণের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি নির্বাচন একটি জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে এই দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও সময়সাপেক্ষ। এই পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের বিদেশযাত্রা বন্ধ করা হয়েছে, এবং ছবি নামানোর সিদ্ধান্তকে এরই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশকারীরা গণতন্ত্রের শত্রু: সালাহউদ্দিন
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা উঠে আসছে। অনেক পর্যবেক্ষক প্রশ্ন তুলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের এক বছর পর কেন এখন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো? কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের জন্য একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ চলছে, এবং ছবি নামানো তারই একটি ধাপ। তবে, এই দাবিগুলো অপ্রমাণিত এবং কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই প্রচারিত হচ্ছে।
অভ্যুত্থানের পক্ষে কিছু গোষ্ঠী বরাবরই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের অপসারণের পক্ষে ছিল। এমনকি বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছিল, যা বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরোধিতার কারণে সফল হয়নি।






















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































