চবিতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ-newsedge4

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে শনিবার (৩০ আগস্ট ২০২৫) দিবাগত রাতে, এবং দ্বিতীয় ঘটনাটি রোববার (৩১ আগস্ট ২০২৫) দুপুর ১২:০৫টার দিকে ক্যাম্পাসের ২ নম্বর গেট–সংলগ্ন জোবরা গ্রামে।

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এক নারী শিক্ষার্থী ২ নম্বর গেট সংলগ্ন শাহাবুদ্দিনের বাসায় ভাড়া থাকেন। তিনি বাসায় প্রবেশের চেষ্টা করলে দারোয়ানের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। দারোয়ান দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান এবং একপর্যায়ে তাকে মারধর করেন, যার মধ্যে থাপ্পড় ও ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা ছিল। শিক্ষার্থীটি তার সহপাঠীদের ফোনে জানালে তারা ঘটনাস্থলে এসে দারোয়ানকে আটকানোর চেষ্টা করেন।

দারোয়ান পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা শিক্ষার্থীদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এরপর মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। শিক্ষার্থীরাও সোহরাওয়ার্দী হলের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘবদ্ধ হন, যার ফলে দফায় দফায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী আহত হন, যাদের মধ্যে ২১ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কয়েকজনের শরীরে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রক্টরিয়াল বডির দুই সদস্য এবং পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর চারটি গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রোববার দুপুর ১২:০৫টার দিকে জোবরা গ্রামে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা এবং স্থানীয়রা দুই পক্ষে অবস্থান নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, এবং প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তবে, একপর্যায়ে উভয় পক্ষ ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং লাঠিসোঁটা ও রামদা নিয়ে হামলা চালায়, যার ফলে এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এই সংঘর্ষে সহ-উপাচার্য মো. কামাল উদ্দিনসহ অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থীকে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যাম্পাসের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, তাদের মাথা থেকে রক্ত ঝরছিল। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো উপস্থিতি ছিল না।

পরীক্ষা স্থগিত

শনিবার রাতের সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রোববার (৩১ আগস্ট) সকল পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে। সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন জানান, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আজকের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পরীক্ষার পরবর্তী তারিখ জানানো হবে।”

দুই দিনের সংঘর্ষে মোট ৭০ জনের অধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩০ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চবি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ টিপু সুলতান জানান, “বহু শিক্ষার্থী আহত অবস্থায় মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন। আমরা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। যাদের অবস্থা গুরুতর, তাদের চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

আরও পড়ুন: নুরের শারীরিক অবস্থার উন্নতি, কেবিনে স্থানান্তরের প্রস্তুতি

সহ-উপাচার্য মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা হয়েছে। আমরা স্থানীয়দের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ জানান, “আমরা ভিসি মিটিং করছি এবং এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বার ও ডিজিএফআই, এনএসআইয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি

সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন যে, পূর্বের ঘটনাগুলোতে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “এ ঘটনার পুরো দায় প্রশাসনের। আগেও স্থানীয়দের হাতে শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছে, কিন্তু তাদের শাস্তির আওতায় আনা হয়নি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *