বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে বা ইচ্ছাকৃতভাবে জটিল করে তোলা হচ্ছে। রোববার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। বেলা ৩টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সভায় একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়।
তারেক রহমান বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আমাদের রাজপথের সহযোদ্ধা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলাসহ সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো স্পষ্ট করে যে, দেশের স্থিতিশীলতা ক্রমশ জটিল হচ্ছে।” তিনি গত শুক্রবার কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের সামনে সংঘটিত সংঘর্ষে নুরের আহত হওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং এর পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, “গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধরে রেখে আমাদের সংযম ও সহনশীলতার সঙ্গে এগোতে হবে। দেশকে মব কালচার ও অস্থিরতা থেকে মুক্ত করতে হবে।”
তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এখনই উপযুক্ত সময়। তিনি বলেন, “একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত গণতন্ত্র ঝুঁকিমুক্ত হবে না।” তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন বানচাল করতে অদৃশ্য শক্তি সক্রিয় রয়েছে, এবং তাদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
বিএনপির প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “বিএনপি সবসময় জনগণের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে। আমরা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি দলের ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হবেন। বিএনপিই বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারে।”
আরও পড়ুন: নুরের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানালেন তারেক রহমান
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পস্তবক অর্পণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেবেন।
























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































