আজ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ৪৭তম সাক্ষী নাহিদ ইসলামের জবানবন্দি সম্পন্ন হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দিনে সকাল সোয়া ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত বিচারপতি গোলাম মোর্তজা মজুমদারের নেতৃত্বে আইসিটি-১-এর দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই জবানবন্দি রেকর্ড করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আজ তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে সাক্ষী প্রদান করেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “গত বছর ৫ আগস্ট সংবাদ সম্মেলনে আমরা সকল রাজনৈতিক বন্দীর মুক্তির দাবি জানাই এবং অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকার গঠনের দাবি তুলি। আমরা স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, কোনো ধরনের সেনাশাসন বা সেনা সমর্থিত শাসন আমরা মেনে নেব না।”
তিনি জবানবন্দিতে বলেন, “জুলাই বিপ্লবের পুরো আন্দোলন জুড়ে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালায়। এমনকি হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে গুলি চালায় এবং নির্যাতন করে।”
নাহিদ ইসলাম এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং তৎকালীন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের দায়ী করেন। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সরাসরি নির্দেশে এই হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল। তারা ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করার জন্য এই অপরাধ সংঘটিত করেছে।” তিনি আরও জানান, “মিডিয়ার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার ও নন-লেথাল অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন।” তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে এই অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
জবানবন্দিতে নাহিদ বলেন, “৪ আগস্ট শাহবাগে আমরা অবস্থান ও বিক্ষোভ করি এবং ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করি। কিন্তু সরকার কারফিউ জারি করে দেশব্যাপী হত্যাযজ্ঞ চালায়। আমরা জানতে পারি, ৬ আগস্ট কর্মসূচি ব্যর্থ করতে সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে, মোবাইল ও ইন্টারনেট বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে এবং আমাদের হত্যা বা গুম করার ষড়যন্ত্র করছে। তাই আমরা কর্মসূচি একদিন এগিয়ে ৫ আগস্ট নির্ধারণ করি।”
তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্ট মার্চ টু ঢাকা সফল করতে সমন্বয়ক মাহফুজ আলম অন্যান্য ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করেন। আমরা নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা করি এবং তাকে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দিই।”
আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন মাহমুদুর রহমান
এর আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নাহিদের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। অসমাপ্ত থাকায় ট্রাইব্যুনাল আজকের জন্য মুলতবি করে। নাহিদ ইসলাম জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সমন্বয়ক এবং এনসিপির আহ্বায়ক হিসেবে এই মামলায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।






















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































