মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-newsedge24

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই সময়ে অত্যন্ত সাবধানে ও সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলতে হবে, যেন আমাদের ভুল পদক্ষেপের কারণে ফ্যাসিস্টদের নির্যাতনের কবলে আবার না পড়ি। আমরা ফ্যাসিস্টদের আর ফিরে আসতে দেখতে চাই না।”

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সদর উপজেলা বিএনপি ও রুহিয়া থানা বিএনপির বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, “আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে ছয় বছর কারাগারে আটক রাখা হয়েছে, প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে এবং ইলিয়াস আলীসহ ১৭০০ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে, যাদের কোনো চিহ্ন এখনো পাওয়া যায়নি। আমাদের নেতা তারেক রহমানকেও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে নির্বাসিত করা হয়েছে।”

তিনি আগামী নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “এই নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে আসতে চাই। জনগণ ১৫-১৬ বছর ধরে ভোট দিতে পারেনি। তারা ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে নিজস্ব সরকার গঠন করতে চায়, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সচল করে একটি সমৃদ্ধশালী দেশ গড়বে।”

আন্দোলনের নামে রাস্তায় অশান্তি সৃষ্টির বিরুদ্ধে সতর্ক করে তিনি বলেন, “যারা সংগ্রাম করেছেন, তাদের মধ্যে অমত থাকতে পারে। কিন্তু তা নিয়ে রাস্তায় আন্দোলন করা গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের দাবিগুলো নির্বাচনের পর গঠিত পার্লামেন্টে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা সংস্কার চাই, এবং সংস্কারের শুরু আমরাই করেছি।”

গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “গণতন্ত্রই একমাত্র ব্যবস্থা, যেখানে সবার বিকাশের সুযোগ থাকে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়, পার্লামেন্টে কথা বলার সুযোগ থাকে, গণমাধ্যম ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়। অর্থনৈতিক ব্যবস্থার গণতান্ত্রিকরণের মাধ্যমে আমরা আরও উন্নতি করতে পারি।”

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “গণমাধ্যম গণতন্ত্রের একটি প্রধান স্তম্ভ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও সমালোচনার মাধ্যমে গণতন্ত্র টিকে থাকে। চটকদার সংবাদের পরিবর্তে মূল বিষয়ে ফোকাস করা উচিত।”

তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের বিরুদ্ধেও সতর্ক করে বলেন, “জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য অনেক অপপ্রচার চালানো হয়। রাজনৈতিক কর্মীদের সত্য বাছাই করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।”

মির্জা ফখরুল জানান, আগামী ১৭ অক্টোবর সংস্কার কমিশনের মাধ্যমে একটি ‘জুলাই সনদ’ প্রকাশিত হবে, যাতে সব রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করবে। তিনি বলেন, “যে বিষয়গুলোতে একমত হওয়া যায়নি, তা নির্বাচনের পর পার্লামেন্টে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে এগুলো নিষ্পত্তি হবে।”

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা একদিনে নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তাবে রাজি হয়েছি। একমত হওয়া বিষয়গুলো নিয়ে জনগণের কাছে যেতে পারি।”

আরও পড়ুন: নির্বাচনের পথে অটল বিএনপি: মির্জা ফখরুল

অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরিফ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *