পুলিশের ভূমিকা সর্বাগ্রে-স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা-newsedge24

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ পুলিশ এমন একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে, যা দেশে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পুলিশের ভূমিকা সর্বাগ্রে ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজ সোমবার (২৭ অক্টোবর, ২০২৫) ঢাকার পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ‘হল অব প্রাইড’ সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ পুলিশ আয়োজিত বিশেষ অপরাধ পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের সভাপতিত্বে বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “এদেশের জনগণ, রাজনৈতিক দলসহ সর্বমহলের প্রত্যাশা পূরণের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এখন পুলিশের। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বাংলাদেশ পুলিশ ও অন্তর্বর্তী সরকার কাজ করে যাচ্ছে।” তিনি পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “নির্বাচনী মাঠে আপনারা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী নন, জনগণের নিরাপত্তা, আস্থা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রতীক।”

তিনি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও সংলাপ শুরু হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে সুবিধা প্রদান বা গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নিজেদের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে ভাবা যাবে না। তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্টদের তালিকা পুলিশের কাছে রয়েছে। তারা সমাজ ও রাষ্ট্রে অস্থিরতা সৃষ্টিতে জড়িত। জামিনে মুক্ত অপরাধীরা অপরাধ করছে, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার বাড়াতে হবে। তবে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা যাবে না।”

উপদেষ্টা ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অধীনস্থদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও মনোবল বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে বা সরকার ও রাষ্ট্রের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, জেলা পর্যায়ে কোর কমিটির সভা বাড়াতে হবে, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহার ও মিথ্যা মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে।

আরও পড়ুন: নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠক

তিনি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চকে আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “জেলার সকল বিষয় নখদর্পণে রাখতে হবে। থানা থেকে হারানো বা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান ত্বরান্বিত করতে হবে।” তিনি জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা জোরদার এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো দুর্ঘটনা রোধে সতর্কতার আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, “পুলিশের ওপর আক্রমণ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এ ব্যাপারে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি সাম্প্রতিক সাইবার অপরাধ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তরুণ পুলিশ অফিসারদের অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *