নির্বাচন কমিশন-newsedge4

নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’ গেজেট প্রকাশ করেছে। সোমবার রাতে সংস্থাটির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এই গেজেট প্রকাশ করেন। নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী যদি আচরণ বিধি ভাঙেন তাহলে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হবে বলে জানানো হয় গেজেটে।

গেজেটে বলা হয়েছে, পোস্টারে প্রচার নিষিদ্ধ। তবে ব্যানার, বিলবোর্ড করা গেলেও তা হতে হবে পরিবেশবান্ধব। করা যাবে না যানবাহন সহকারে মিছিল বা শোডাউন। এছাড়া মশাল মিছিল প্রভৃতি বিধান আনা হয়েছে। আচরণ বিধি ভাঙলে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিল, অন্যান্য বিধি না মানলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও দেড় লাখ টাকা জরিমানা এবং একই কারণে দলের জন্য দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান আনা হয়েছে।

এবার প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের বিধান আনলো কমিশন। এক্ষেত্রে প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট বা তার দল বা প্রার্থী সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম, অ্যাকাউন্ট আইডি, ই-মেইল আইডিসহ অন্যান্য শনাক্তকরণ তথ্যাদি প্রচার-প্রচারণা শুরুর পূর্বে রিটার্নিং অফিসারের নিকট দাখিল করতে হবে। প্রচার-প্রচারণাসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা যাবে না। ঘৃণাত্নক বক্তব্য, ভুল তথ্য, কাহারো চেহারা বিকৃত করা ও নির্বাচন সংক্রান্ত বানোয়াট তথ্যসহ সব প্রকার ক্ষতিকর কনটেন্ট বানানো ও প্রচার করা যাবে না। প্রতিপক্ষ, নারী, সংখ্যালঘু বা অন্য কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ঘৃণাত্মক বক্তব্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনী স্বার্থ হাসিল করার জন্য ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার করা যাবে না।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ সংকটময় মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে: সিইসি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচন সংক্রান্ত সব কনটেন্ট শেয়ার ও প্রকাশ করার পূর্বে সত্যতা যাচাই করতে হবে। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা প্রার্থীর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করার জন্য কিংবা নারী-পুরুষ নিবিশেষে কোন প্রার্থী বা ব্যক্তির চরিত্র হনন কিংবা সুনাম নষ্ট করিবার উদ্দেশ্যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে, সাধারণভাবে বা সম্পাদন (এডিট) করে কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথা এআই দ্বারা কোনো মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, পক্ষপাতমূলক, বিদ্বেষপূর্ণ, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ এবং মানহানিকর কোনো আধেয় (কন্টেন্ট) তৈরি, প্রকাশ, প্রচার ও শেয়ার করতে পারবেন না।

আরও পড়ুন: ২০ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের রায়

এছাড়াও কোনো দল বা প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশে জনসভা, পথসভা, সভা-সমাবেশ বা কোনো প্রচারণা করতে পারবে না। ভোটের প্রচারে থাকছে না পোস্টারের ব্যবহার। একজন প্রার্থী তার সংসদীয় আসনে ২০টির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবে না; যার দৈর্ঘ্য হবে সর্বোচ্চ ১৬ ফুট আর প্রস্থ ৯ ফুট। নির্বাচনের দিন ও প্রচারের সময় কোনো ধরনের ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা এ জাতীয় যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো প্রার্থী ও প্রতিষ্ঠান ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে পারবে। তবে ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদের নাম ও প্রতীক উল্লেখ করতে পারবে না।

গেজেটটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে এবং সকল রাজনৈতিক দলকে এটি মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *