পূর্বাচল প্রকল্পের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি ও প্রতারণার মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হয়েও শেখ হাসিনার সম্পদের প্রতি লোভ ছিল। তিনি আইন মানেননি। রাজউকের প্লট বরাদ্দের জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করেননি, বৈধ হলফনামাও দাখিল করেননি।
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পের প্লট বরাদ্দে দুর্নীতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে তিন ধারায় ৭ বছর করে মোট ২১ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। পলাতক থাকায় শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিচার অনুপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়।
বিচারক তার ৪৮ পৃষ্ঠার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হয়েও শেখ হাসিনার সম্পদের প্রতি লোভ ছিল। তিনি আইন মানেননি। রাজউকের প্লট বরাদ্দের জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন করেননি, বৈধ হলফনামাও দাখিল করেননি। তার স্বামীর নামে ১৯৭৩ সালে বরাদ্দকৃত প্লটের তথ্য গোপন করে মিথ্যা হলফনামা দিয়েছেন। হলফনামা নোটারি করাও হয়নি—যা আইনগতভাবে অকার্যকর।”
আরও পড়ুন: পূর্বাচল প্লট দুর্নীতির মামলায় শেখ হাসিনাকে ২১ বছরের কারাদণ্ড
বিচারক আরও বলেন, “আমাদের প্রতিটি সেক্টরে রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ঢুকে গেছে। দুর্নীতিবাজদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। শেখ হাসিনা প্লট না নিলে ওই প্লট অন্য কোনো প্রকৃত আবেদনকারী পেতেন। তিনি প্রতারণা করেছেন। এ রায়ের মাধ্যমে প্রকৃত আবেদনকারীরা যেন প্লট পান, সেই দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো।”
মামলার সংক্ষিপ্ত ঘটনাপ্রবাহ
- ২০২২ সালের ১৮ জুলাই: শেখ হাসিনার নামে প্লট বরাদ্দের ফাইল খোলা হয়
- ২৬ জুলাই: রাজউক বোর্ড সভায় প্রাথমিক অনুমোদন
- ২৭ জুলাই: হলফনামা চাওয়া হয়
- শেখ হাসিনা মিথ্যা তথ্য দিয়ে হলফনামা দাখিল করেন (নোটারি ছাড়া)
- ৩ আগস্ট: চূড়ান্ত বরাদ্দ
- ১২ সেপ্টেম্বর: প্লটের দখল বুঝে নেওয়ার আবেদন করেন
মামলার রায়ে ১৫১১ নম্বর প্লটটি বাজেয়াপ্ত করে প্রকৃত আবেদনকারীদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































