ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে সৌজন্যের সুবাতাস। ভোটের লড়াইয়ে একে অপরের কড়া প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও, নির্বাচনের পর সেই তিক্ততা ভুলে নতুন এক ‘সংলাপের রাজনীতি’র সূচনা করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তিনি প্রথমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন।
বসুন্ধরায় জামায়াত আমিরের সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সাক্ষাৎ
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে পৌঁছান তারেক রহমান। সেখানে ডা. শফিকুর রহমান তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এই বৈঠকে দুই নেতা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনের ফলাফল এবং আগামী দিনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট পেয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে। যদিও বিএনপি জোট ২১২টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে, তবে জামায়াতের এই বিশাল জনভিত্তিকে সম্মান জানিয়ে তারেক রহমানের এই সফরকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন।
বেইলি রোডে নাহিদ ইসলামের সঙ্গে রাজনৈতিক শিষ্টাচার
জামায়াত আমিরের বাসা থেকে বেরিয়ে রাত ৮টা ২৫ মিনিটে তারেক রহমান পৌঁছান রাজধানীর বেইলি রোডে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে। জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্রনায়ক এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বর্তমানে দেশের তরুণ প্রজন্মের রাজনীতির এক শক্তিশালী মুখ। তার দল এনসিপি ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনে ৭৭টি আসন লাভ করেছে।
তারেক রহমান পৌঁছালে নাহিদ ইসলাম নিজেই বাসার সামনে এসে তাকে স্বাগত জানান। দুই নেতার মধ্যে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে সৌজন্য বিনিময় হয়। নির্বাচনী প্রচারণার সময় একে অপরের কঠোর সমালোচনা করলেও, বিজয়ের পর মাঠের প্রতিপক্ষের বাসায় গিয়ে শুভেচ্ছা জানানো বাংলাদেশের ইতিহাসে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন অনেকে।
কেন এই ‘সৌজন্য সফর’?
বিএনপির উচ্চপর্যায়ের এক নেতা জানান, তারেক রহমান একটি ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ বাংলাদেশ গড়তে চান। ভোটের মাঠে লড়াই থাকলেও দেশ গঠনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই তার লক্ষ্য। গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, নির্বাচনী বিরোধ যেন কোনোভাবেই ব্যক্তিগত প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়। রোববারের এই সফরগুলো মূলত সেই বার্তারই বাস্তব প্রতিফলন।
তারেক রহমানের এই সফরগুলো কেবল সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং এটি দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট দূর করার এক বড় প্রয়াস।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































