প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-newsedge24

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সারাদেশে শিশুদের হামের টিকা না দেওয়ার ফলে বিগত দুই সরকারের ‘জীবনবিনাশী ব্যর্থতা’ ক্ষমাহীন অপরাধ। তিনি বলেন, ‘আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, ভবিষ্যতে আর কখনোই যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।’

আজ শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার সারাদেশে জরুরি ভিত্তিতে হামের টিকা দিয়ে তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়ায় আল্লাহর রহমতে পরিস্থিতির অবনতি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। এজন্য আমি সকল চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীসহ সকলকে ধন্যবাদ জানাই।”

যারা তাদের প্রিয় সন্তান হারিয়েছেন, তাদের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের কর্তব্য, এটি করুণা নয়। সুচিকিৎসা পাওয়া নাগরিকদের মৌলিক অধিকার।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “এই সম্মেলন শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, এটি স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি।”

তিনি জানান, স্বাস্থ্যখাতে ক্রমান্বয়ে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবা শক্তিশালী করা এবং নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পূর্ণাঙ্গ মাতৃত্ব ও শিশুস্বাস্থ্য সেবার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। এর ৮০ শতাংশ নারী থাকবে। দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ই-হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত উপস্থিত ছিলেন। সারাদেশ থেকে পাঁচ শতাধিক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *