জাতীয় সংসদ-newsedge24

সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রক্রিয়া নিয়ে জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। বিশেষ কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকেলে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

আইনমন্ত্রী সংসদে বলেন, সাংবিধানিক চর্চাকে সংসদের ভেতরে নিয়ে আসার অংশ হিসেবে সরকার সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে চায়। রুল ২৬৬ অনুসারে ১২ সদস্যের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি এবং স্বতন্ত্র সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “বিরোধী দল থেকে ৫ জন সদস্যের নাম চাওয়া হয়েছে। বিএনপি যদি ৫ জনের নাম প্রদান করে, তাহলে আগামীকালই কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের কাজ এগিয়ে নেওয়া যাবে।”

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে ১২ জনের তালিকা প্রস্তুত রয়েছে। বিরোধী দল থেকে ৫ জনের নাম পেলে মোট ১৭ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।

বিরোধী দলের অবস্থান

বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এ বিষয়ে চিফ হুইপ আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। এখানে কনসেপচুয়াল ডিফারেন্স রয়েছে। আমরা রিফর্ম চেয়েছি, কিন্তু এখানে অ্যামেন্ডমেন্টের প্রস্তাব এসেছে। এ বিষয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা প্রয়োজন। আজকেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত মতামত দেওয়া সম্ভব নয়। আমরা পরে জানাব।”

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “বিরোধী দল যদি সময় নিতে চায় তাহলে কোনো অসুবিধা নেই। আমরা অপেক্ষা করব। প্রয়োজনে পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, তাতেও আমাদের আপত্তি নেই। আমরা জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংশোধনের পথে এগিয়ে যেতে চাই।”

ডেপুটি স্পিকার শেষে বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা জানিয়েছেন যে, এ বিষয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

বর্তমানে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *