বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার (৪ মে ২০২৫) বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে রাজধানীর ধানমন্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার জুনিয়র এবং সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মুহাম্মদ শিশির মনির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমার সিনিয়র ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক স্যার আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন।”
ব্যারিস্টার রাজ্জাক গুরুতর অসুস্থতার কারণে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। দীর্ঘ ১১ বছর যুক্তরাজ্যে থাকার পর ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরে সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়মিত হন। শেখ হাসিনার শাসনামলে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে জামায়াত নেতাদের প্রধান আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে জামায়াতের তৎকালীন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির পর তিনি ১৭ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে চলে যান।
যুক্তরাজ্যে থাকার সময় ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি জামায়াতে ইসলামী থেকে পদত্যাগ করেন এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির প্রধান উপদেষ্টা হন। ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট তিনি সেই পদ থেকেও পদত্যাগ করেন।
ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ১৯৪৪ সালে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের শেখলাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিএ (অনার্স) ও এমএ ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮০ সালে যুক্তরাজ্যের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত তিনি লন্ডনে আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। দেশে ফিরে ১৯৮৬ সালে তিনি আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন, ১৯৮৮ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ১৯৯৪ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৯০ সালে তিনি ‘দ্য ল’ কাউন্সেল’ নামে একটি আইনি ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২০০২ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র আইনজীবী হন।
১৯৮৬ সালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আইসিটির বিচার প্রক্রিয়ায় তিনি জামায়াত নেতাদের পক্ষে আইনি লড়াই চালান, যা তাকে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপকভাবে পরিচিত করে।
ব্যারিস্টার রাজ্জাকের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার দুই ছেলে ব্যারিস্টার এবং সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় নিয়োজিত।



















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































