পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিনের পদে পরিবর্তনের গুঞ্জন সত্য হতে চলেছে। সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র মঙ্গলবার (১৩ মে ২০২৫) সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছে যে, জসীম উদ্দিনকে বিদায় দিয়ে নতুন পররাষ্ট্র সচিব নিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত ৮ মাসে তার কার্যক্রমে ‘তালগোল’ পাকানোর অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে মৌখিক নির্দেশনা এসে পৌঁছায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, যা সেগুনবাগিচায় বজ্রপাতের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এই সিদ্ধান্ত জসীম উদ্দিনকে ব্যথিত করেছে, এবং তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে এর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তার ঘনিষ্ঠরা জানান, তিনি ‘মনমরা’ অবস্থায় রয়েছেন এবং মন্ত্রণালয়ে সীমিত উপস্থিতি রাখছেন। গত সপ্তাহ ও চলতি সপ্তাহে তিনি কারও সঙ্গে উল্লেখযোগ্য সাক্ষাৎ বা বৈঠকে অংশ নেননি, বরং প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন। এই নির্লিপ্ততা মন্ত্রণালয়ের রুটিন কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে।
উদাহরণস্বরূপ, আগামী ১৫ মে টোকিওতে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের ফরেন অফিস কনসালটেশন (এফওসি) বৈঠকের কথা ছিল, যা প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ২৮ মে জাপান সফরের প্রস্তুতির অংশ। জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে এই বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও, তার পদ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তিনি এটি স্থগিত করে দেন, যা ঢাকা-টোকিও সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি করে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের হস্তক্ষেপে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়, এবং জসীম উদ্দিনের পরিবর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) ড. নজরুল ইসলামকে এফওসি বৈঠকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। একপর্যায়ে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকীকে পাঠানোর কথা উঠলেও তা চূড়ান্ত হয়নি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, যিনি বর্তমানে বার্লিনে রয়েছেন, ১৬ মে দেশে ফিরে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনটি বিকল্প প্রস্তাব আলোচনায় রয়েছে: ১) জসীম উদ্দিন নিজে ছুটিতে চলে যাবেন, ২) তাকে কোনো দেশে রাষ্ট্রদূত পদে পাঠানো হবে, অথবা ৩) তাকে ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর পদে বদলি করা হবে।
জসীম উদ্দিনকে গত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪-এ অনেক সিনিয়রকে পাশ কাটিয়ে পররাষ্ট্র সচিব নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। তিনি বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৩তম ব্যাচের কর্মকর্তা এবং চীন, কাতার, গ্রিসে রাষ্ট্রদূত ছাড়াও নয়াদিল্লি, টোকিও, ওয়াশিংটন ডিসি, এবং ইসলামাবাদে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০১৮ সালে এথেন্সে কনস্যুলার সেবার জন্য জনপ্রশাসন পুরস্কার পেয়েছিলেন। তার অবসরোত্তর ছুটি ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর শুরু হওয়ার কথা।
নৈতিক স্খলন ও দুর্নীতির অভিযোগে অফিসার্স ক্লাব তার সদস্যপদ স্থগিত করেছে, যা তার বিদায়ের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে।

























































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































