বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য অবিলম্বে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছে। এর অন্যথায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখা কঠিন হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি। বৃহস্পতিবার (২২ মে ২০২৫) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি উত্থাপিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
ড. মোশাররফ জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল দায়িত্ব হচ্ছে ২০২৫ সালের মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শাসনের পতন ঘটলেও, গত সাড়ে ৯ মাসে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকারের অগ্রগতি প্রশ্নবিদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থানের ঐক্যে ফাটল ধরছে, যা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে বাধা সৃষ্টি করছে।
বিএনপি অভিযোগ করেছে, সরকারের কিছু পদক্ষেপ, যেমন মানবিক করিডর ও চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম, জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। এছাড়া, কিছু উপদেষ্টার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য সরকারের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশেষ করে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিএনপি দাবি করেছে, এসব বিতর্কিত উপদেষ্টাদের অব্যাহতি দিতে হবে এবং উপদেষ্টা পরিষদকে ছোট করে শুধু দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রাখা উচিত।
বিএনপি অভিযোগ করেছে, নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে সব দলের মতামত নেওয়া হয়নি, যা সরকারের স্বচ্ছতার অভাব প্রকাশ করে। তারা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণে বিলম্বের সমালোচনা করে বলেছে, আদালতের রায় মেনে দ্রুত শপথের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবিতে নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের ঘটনাকে তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেছে।
বিএনপি সতর্ক করে বলেছে, সরকার যদি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা না করে, তবে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির অবনতি হবে। এর ফলে দলটি সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হবে। তারা জানিয়েছে, সংস্কার ও নির্বাচন প্রক্রিয়া একসঙ্গে চলতে পারে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তি ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার চলমান থাকবে।
বিএনপি দেশের স্থিতিশীলতা, আইন-শৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, এবং বিনিয়োগ ও ব্যবসায় গতিশীলতার জন্য ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।





















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































