তারেক রহমান-newsedge24

২৮ মে ২০২৫, বুধবার, রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির তিন অঙ্গ-সংগঠন—জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘তারুণ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠার সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে নয়াপল্টন জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না।

তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বলেন, “জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসা নষ্ট হয় এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া ঠিক হবে না। গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিপক্ষ বানাবেন না।” তিনি সরকারের উদ্দেশে আরও বলেন, “আপনাদের কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে সরকার থেকে বের হয়ে নির্বাচন করুন।”

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ও নতুন ভোটাররা এখনো নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পায়নি। অতীতের সরকারের আমলে নির্বাচন গুরুত্ব পায়নি, এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও ১০ মাস পার হলেও নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি। তিনি বলেন, “অতীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন করেছে। আমরা জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ একটি সরকার দেখতে চাই।”

তারেক রহমান জানান, বিএনপির দেশের জন্য একাধিক উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষিত বেকারদের জন্য ভাতা চালু, সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ৫০ থেকে ১০০-এ বৃদ্ধি, এবং দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা প্রবর্তন। তিনি বলেন, “দেশ পরিচালনার জন্য নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা বা সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণ গ্রহণযোগ্য নয়।”

সকাল থেকে নয়াপল্টনে নেতাকর্মীদের ঢল নামে, এবং বিকেলে এলাকাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ঢাকা, সিলেট, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেন। এই সমাবেশ ছিল বিএনপির বিভাগীয় পর্যায়ের ধারাবাহিক কর্মসূচির শেষ ধাপ। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা এবং আয়োজক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *