বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশকে যত দ্রুত নির্বাচনের পথে আনা যাবে, ততই মঙ্গল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের জন্য বিএনপি সবচেয়ে বেশি লড়াই করেছে এবং বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। এছাড়া, তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। এই মন্তব্য তিনি ৯ জুলাই ২০২৫-এ রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন দলীয় নেতাদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে করেন।
মির্জা ফখরুল আগারগাঁওয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসকে দেখতে যান। তিনি চিকিৎসকদের সঙ্গে আব্দুল কুদ্দুসের স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেন। এরপর তিনি একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদকে দেখতে যান এবং তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এই সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি নির্বাচন ও বিচারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি
মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি বিএনপি। আমরা বাংলাদেশে একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র এনেছি এবং পরবর্তীতে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব হচ্ছে দেশকে সঠিক পথে পরিচালনা করা। “যত দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা যাবে, ততই দেশের মঙ্গল। নির্বাচন জনগণের জন্য প্রয়োজন, যার মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক স্থাপিত হবে।” তিনি সংস্কার ও নির্বাচনের মধ্যে কোনো সাংঘর্ষিকতা নেই বলে মনে করেন এবং জানান, বিএনপি সবসময় সংস্কারের দাবি তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, “যারা মনে করেন নির্বাচনের প্রয়োজন নেই, তাদের পুনর্বিবেচনা করা উচিত। নির্বাচনে দেরি হলে দেশ পিছিয়ে যাবে, বিনিয়োগ কমবে, নারীদের নিরাপত্তা হ্রাস পাবে এবং বিচার ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে।” তিনি ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যা দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: পক্ষপাতদুষ্ট বিদেশি পর্যবেক্ষকদের অনুমতি দেওয়া হবে না: সিইসি
আওয়ামী লীগের শাসনামল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নির্যাতন, হত্যা, গুম ও খুনের সবচেয়ে বড় শিকার বিএনপি। আমি নিজে ১১২টি মামলা ও ১৩ বার কারাবরণ করেছি।” তিনি শেখ হাসিনাকে হাজার হাজার মানুষের হত্যার জন্য এককভাবে দায়ী মনে করেন এবং বলেন, “তার বিচার শুরু হয়েছে। আমরা আশাবাদী, গণহত্যা ও ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিচার হবে।” তিনি আরও জানান, যদি দলগতভাবে আওয়ামী লীগের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দল হিসেবেও তাদের বিচার হওয়া উচিত।
তিনি ভারতের প্রতি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা চাই ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেবে এবং তাকে ও তার সহযোগীদের বিচারের আওতায় আনা হবে।”
মির্জা ফখরুল দেশের সব গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “বিভাজনের রাজনীতি নয়, ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে বাঁচাতে হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন হয়েছে, এবং এই ত্যাগ বৃথা যাবে না। তিনি বিএনপির ৩১ দফা প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































