রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনার পর বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি) তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের জন্য নতুন কয়েকটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের কাছে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন, জোর দিয়ে বলেন যে বিচার বিভাগকে বিতর্কের বাইরে রাখতে বিকল্প পদ্ধতির প্রয়োজন।
বিএনপি’র প্রস্তাবিত পদ্ধতি
বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগে বিচার বিভাগের ওপর নির্ভরতা কমাতে নিম্নলিখিত প্রস্তাব দিয়েছে:
- রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা: সংসদ ভেঙে যাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে একজন যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিককে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করবেন।
- চার সদস্যের কমিটি: যদি আলোচনায় ঐকমত্য না হয়, তবে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, নিম্নকক্ষের স্পিকার এবং বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার—এই চারজনের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠিত হবে। এই কমিটির সভাপতিত্ব রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি সভাপতিত্ব করলে তার ভোটাধিকার থাকবে না, তবে স্পিকার সভাপতিত্ব করলে ভোটাধিকার থাকবে। এই কমিটি ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন করবে।
- তৃতীয় বৃহৎ দলের প্রতিনিধি সংযোজন: যদি উপরের পদ্ধতিতে ঐকমত্য না হয়, তবে কমিটিতে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী তৃতীয় বৃহৎ দলের একজন প্রতিনিধি যুক্ত হবে। এই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি সভাপতিত্ব করবেন এবং তার ভোটাধিকার থাকবে।
- বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধি: যদি তৃতীয় ধাপেও সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব না হয়, তবে প্রধান বিরোধী দল বাদে সংসদে ৫% বা তার বেশি ভোট পাওয়া বিরোধী দলগুলো মিলে একজন প্রতিনিধি মনোনয়ন করবে। এই কমিটিতেও রাষ্ট্রপতির ভোটাধিকার থাকবে।
- বিচার বিভাগের বিকল্প: যদি উপরের কোনো পদ্ধতিতে ঐকমত্য না হয়, তবে ত্রয়োদশ সংশোধনীর বিধান অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিদের মধ্যে ৭৫ বছরের কম বয়সী কাউকে নির্বাচন করা যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের কমিটি এই নির্বাচন করবে।
- শেষ বিকল্প: যদি এতেও সমাধান না হয়, তবে রাষ্ট্রপতি বা কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে প্রধান উপদেষ্টা করা যেতে পারে। তবে, বিএনপি রাষ্ট্রপতিকে শেষ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করার পক্ষে।
আরও পড়ুন: রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও অনুভূতির ভিত্তিতে আনা হচ্ছে সংশোধন প্রস্তাব: আলী রীয়াজ
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে প্রবর্তিত হয়েছিল, যা ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাতিল করা হয়। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের পথ প্রশস্ত করে। বর্তমানে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে, এই ব্যবস্থার কাঠামো এবং প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করছে।
বিএনপি’র প্রস্তাবে জোর দেওয়া হয়েছে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মেয়াদ ৯০ দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, এবং স্থানীয় নির্বাচন এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত হবে না। এই প্রস্তাবগুলো বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা রক্ষা এবং রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে দেওয়া হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী জাতীয় ও স্থানীয় উভয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের প্রস্তাব দিয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরোধিতা করেছে। ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) ১১ সদস্যের একটি সর্বদলীয় সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে প্রতিটি দল তিনজন প্রার্থী মনোনয়ন করবে এবং ৮-৩ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হবে। ঐকমত্য না হলে, আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে গঠিত একটি উচ্চকক্ষ তাৎক্ষণিক রান-অফ ভোটিংয়ের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন করবে।






















































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































