পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন-newsedge24

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ঐতিহাসিক অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে দুই দেশ একমত হয়েছে। রবিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

তিনি বলেন, “অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একমত হয়েছে। উভয়পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাগুলো পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যেতে চায়।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “৫৪ বছরের সমস্যা একদিনে সমাধান হবে না। আমরা ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য ক্ষমা প্রকাশ, পাওনা অ্যাসেট এবং আটকে পড়া পাকিস্তানি নাগরিকদের বিষয় উত্থাপন করেছি।”

তৌহিদ হোসেন জানান, দুই দেশ নিজ নিজ অবস্থান তুলে ধরেছে এবং সম্পর্ককে মসৃণভাবে এগিয়ে নিতে এই ইস্যুগুলো সমাধানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা একটি বিষয়ে অগ্রগতি হিসেবে ধরে নিতে পারি যে, এই বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন, যাতে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এগুলো বাধা না হয়।”

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার উল্লেখ করেন, ১৯৭৪ সালের ত্রিপক্ষীয় চুক্তি এবং ২০০২ সালে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী পারভেজ মোশাররফের দুঃখ প্রকাশের কথা। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করে তৌহিদ হোসেন বলেন, “আমি অবশ্যই একমত নই। আমরা আমাদের অবস্থান তুলে ধরেছি, তারা তাদের অবস্থান জানিয়েছে।” তিনি বাংলাদেশের দাবিগুলোর মধ্যে পাওনা অ্যাসেটের হিসাব, ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য ক্ষমা প্রকাশ এবং আটকে পড়া নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার ঢাকায় পৌঁছেছেন

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক চাই, যেমনটি আমরা অন্যান্য বন্ধু দেশের সঙ্গে চাই।”

বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তান একটি চুক্তি এবং পাঁচটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে, যা দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *