নুরাল পাগলার দরবারে-newsedge4

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলা’র দরবার শরীফে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় অজ্ঞাত ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫) রাত ১২টার পর গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সকালে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার বিকেলে গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জুড়ান মোল্লাপাড়ায়। নিজেকে ‘ইমাম মাহাদি’ দাবি করা নুরুল হক ওরফে ‘নুরাল পাগলা’র মরদেহ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া তাঁর দরবার শরীফ ও বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) গাড়ি এবং পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে দরবারের এক অনুসারী রাসেল মোল্লা (২৮) নিহত এবং ৫০ জনের বেশি আহত হন, যাদের মধ্যে পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যরাও রয়েছেন।

সম্প্রতি মারা যাওয়া নুরুল হকের কবর মাটি থেকে কয়েক ফুট উঁচু করে কাবা শরীফের আদলে দাফন করা হয়েছিল। এ নিয়ে ‘ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি’ নামে একটি সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং কবর সমতল করার দাবি জানায়। গত মঙ্গলবার তারা সংবাদ সম্মেলন করে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষোভ ও ‘মার্চ ফর গোয়ালন্দ’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। জুমার নামাজের পর শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবে জড়ো হয়ে তৌহিদী জনতা বিক্ষোভ করে এবং নুরুল হকের বাড়ি ও দরবারের ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা দরবার শরীফে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং নুরুল হকের মরদেহ কবর থেকে তুলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পদ্মার মোড়ে পুড়িয়ে দেয়।

আরও পড়ুন: নাশকতার পরিকল্পনায় সাবেক এমপি সহ আ’লীগের ৮ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ জন চিকিৎসা নেন, যাদের মধ্যে ১৯ জনকে ফরিদপুর মেডিকেলে রেফার করা হয়। রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *