মারা গেলেন বদরুদ্দীন উমর-newsedge4

বিশিষ্ট লেখক, গবেষক, বুদ্ধিজীবী ও জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমর আর নেই। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালা গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব। রোববার সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত রাজধানীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমানে জন্মগ্রহণ করেন বদরুদ্দীন উমর। তার পিতা আবুল হাশিম ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের একজন প্রখ্যাত মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ। ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন, রাজনীতি ও অর্থনীতি (পিপিই) বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। দেশে ফিরে ১৯৬৩ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল তার শিক্ষকতা জীবনের এক উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব।

১৯৬৮ সালে তৎকালীন গভর্নর মোনায়েম খানের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা ছেড়ে দেন বদরুদ্দীন উমর। এরপর তিনি পুরোপুরি রাজনীতি ও লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন। তিনি বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একসময় তিনি পূর্ববাংলার কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০০৩ সালে তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বদরুদ্দীন উমরের লেখনী বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক জগতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৬), ‘সংস্কৃতির সংকট’ (১৯৬৭) এবং ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৯)। এই গ্রন্থগুলো সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতি বিষয়ে তার গভীর বিশ্লেষণের প্রতিফলন।

তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *