শহিদুল_আলম-newsedge24

ফিলিস্তিন সংহতি অভিযানে অংশ নিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের হাতে আটক হওয়া বাংলাদেশের বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম মুক্তি পেয়ে শনিবার (১১ অক্টোবর) ভোরে দেশে ফিরছেন।

শহিদুল আলম শনিবার ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আবুল কালাম জানান, শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটায় শহিদুল আলম তুর্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ইসরাইল থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছান। সেখানে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. আমানুর রহমান জানিয়েছেন, শহিদুল আলমের ঢাকাগামী ফ্লাইটটি শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ইস্তাম্বুল থেকে ছাড়ার কথা রয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস শহিদুল আলমের মুক্তি এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে সহায়তার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ শহিদুল আলমকে আটক করার পরপরই বাংলাদেশ সরকার জর্ডান, মিশর এবং তুরস্কে অবস্থিত দূতাবাসগুলোকে সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর মুক্তির জন্য দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছিল।

গাজায় ইসরাইলের আরোপিত অবরোধ ভাঙতে ‘গ্লোবাল সুমুদ মিডিয়া ফ্লোটিলা’ নামে সমুদ্রযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন শহিদুল আলম। তিনি ‘কনশান্স’ নামের একটি জাহাজে ছিলেন। ২ অক্টোবর ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমরা অবরোধ ভাঙব। আপনাদের উপস্থিতি ও সংহতির মূল্য আপনারা হয়তো নিজেরাও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছেন না। ফিলিস্তিন অবশ্যই মুক্ত হবে।’

শহিদুল আলমের এই সাহসী উদ্যোগের জন্য অনেকে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ৪ অক্টোবর এক বিবৃতিতে বলেন, ‘শহিদুল আলম এই অভিযানে অংশ নিয়েছেন সেই সাহস, দৃঢ়তা ও অটল মানসিকতা নিয়ে, যা তিনি ২০১৮ সালে শেখ হাসিনা সরকারের সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য ১০৭ দিন কারাভোগের সময়ও প্রদর্শন করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের অদম্য চেতনার এক উজ্জ্বল প্রতীক।’

বিবৃতির শেষে ইউনূস বলেন, ‘আমরা শহিদুল আলমের পাশে আছি, আমরা গাজার পাশে আছি—এখন এবং চিরকাল।’

একই দিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফেসবুকে লিখেছেন, গাজা অভিমুখী ফ্লোটিলায় শহিদুল আলমের অংশগ্রহণ শুধু সংহতির প্রকাশ নয়, এটি ন্যায়ের পক্ষে বিবেকের এক শক্তিশালী ঘোষণা। বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরে তিনি দেখিয়েছেন, এই জাতি কখনো নিপীড়ন ও অবিচারের কাছে মাথা নত করেনি এবং করবে না।

আরও পড়ুন: ফ্লোটিলার শেষ নৌযান ‘ম্যারিনেট’ ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে

গত বুধবার (৮ অক্টোবর) শহিদুল আলম ইসরাইলি বাহিনীর হাতে অপহৃত হওয়ার কথা জানান। ফেসবুকে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আমি শহিদুল আলম, বাংলাদেশের একজন আলোকচিত্রী ও লেখক। আমাদের সমুদ্রে আটক করা হয়েছে এবং ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী আমাকে অপহরণ করেছে, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির সহযোগিতায় গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে।’

পরে ইসরাইলের কারাগারে আটক থাকা শহিদুল আলমকে তুরস্কের সহায়তায় মুক্ত করার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ সরকার। শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বিষয়টি জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *